**২.২৮:** হে ভারত, সমস্ত প্রাণী জন্মের পূর্বে অপ্রকাশিত ছিল এবং মৃত্যুর পরে পুনরায় অপ্রকাশিত হয়ে যায়; কেবল মধ্যবর্তী সময়েই তারা প্রকাশিত থাকে। অতএব, শোক করার কি কারণ আছে?
**ভাষ্য:** 'প্রাণীরা আদিতে অপ্রকাশিত' – দৃষ্ট, শ্রুত ও অনুভূত সমস্ত প্রাণী (যেমন দেহ) জন্মের পূর্বে অপ্রকাশিত ছিল, অর্থাৎ তারা দৃশ্যমান ছিল না। 'তারা অন্তেও অপ্রকাশিত' – এই সমস্ত প্রাণী মৃত্যুর পরে অপ্রকাশিত হয়ে যায়, অর্থাৎ তাদের বিনাশকালে তারা সকলেই 'অভাব' বা অস্তিত্বহীনতায় বিলীন হয়ে যায় এবং আর দৃষ্ট হয় না। 'কেবল মধ্যেই প্রকাশিত' – এই সমস্ত প্রাণী কেবল মধ্যবর্তী সময়েই প্রকাশিত রূপে আবির্ভূত হয়, অর্থাৎ জন্মের পরে ও মৃত্যুর পূর্বে। যেমন স্বপ্ন নিদ্রার পূর্বে ছিল না এবং জাগরণে থাকে না, তেমনি প্রাণীদের এই দেহগুলো পূর্বে ছিল না এবং পরে থাকবে না। তবে মধ্যবর্তী সময়ে এরা বিদ্যমান বলে প্রতীয়মান হলেও, বাস্তবে এরা প্রতিক্ষণই বিলুপ্ত হয়ে চলেছে। 'শোক করার কি কারণ আছে?' – সিদ্ধান্ত হলো: যা আদিতে ও অন্তে নেই, তা মধ্যেও নেই। সমস্ত প্রাণীর দেহ পূর্বে ছিল না এবং পরে থাকবে না; অতএব, বাস্তবিক অর্থে তা মধ্যবর্তী সময়েও নেই। কিন্তু এই দেহী আত্মা পূর্বে ছিল এবং পরে থাকবে; তাই তা মধ্যবর্তী সময়েও অবশ্যই বিদ্যমান। এই উপসংহারে উপনীত হওয়া যায় যে, দেহ সর্বদাই অস্তিত্বহীন, আর দেহী আত্মা কখনই অস্তিত্বহীন নয়। সুতরাং, উভয়ের জন্যই কোন শোকের কারণ থাকতে পারে না।
★🔗