BG 2.22 — সাংখ্য যোগ
BG 2.22📚 Go to Chapter 2
वासांसिजीर्णानियथाविहायनवानिगृह्णातिनरोऽपराणि|तथाशरीराणिविहायजीर्णा-न्यन्यानिसंयातिनवानिदेही||२-२२||
বাসাংসি জীর্ণানি যথা বিহায় নবানি গৃহ্ণাতি নরোঽপরাণি | তথা শরীরাণি বিহায় জীর্ণা- ন্যন্যানি সংয়াতি নবানি দেহী ||২-২২||
वासांसि: clothes | जीर्णानि: worn out | यथा: as | विहाय: having cast away | नवानि: new | गृह्णाति: takes | नरोऽपराणि: man | तथा: so | शरीराणि: bodies | विहाय: having cast away | जीर्णा: worn out | न्यन्यानि: others | संयाति: enters | नवानि: new | देही: the embodied (one)
GitaCentral বাংলা
যেমন মানুষ পুরনো বস্ত্র ত্যাগ করে নতুন বস্ত্র গ্রহণ করে, তেমনই দেহী জীবাত্মা পুরনো দেহ ত্যাগ করে অন্য নতুন দেহ লাভ করে।
🙋 বাংলা Commentary
শ্লোক ২.২২: মানুষ যেমন পুরনো বস্ত্র ত্যাগ করে নতুন বস্ত্র পরিধান করে, তেমনি আত্মা পুরনো শরীর ত্যাগ করে নতুন শরীর গ্রহণ করে। শব্দার্থ: বাসাসি - বস্ত্র, জীর্ণানি - পুরনো, যথা - যেমন, বিহায় - ত্যাগ করে, নবানি - নতুন, গৃহ্নাতি - গ্রহণ করে, নরঃ - মানুষ, অপরাণি - অন্য, তথা - তেমনি, শরীরানি - শরীর, অন্যানি - অন্য, সংযাতি - প্রবেশ করে, দেহী - আত্মা।
English
Swami Gambirananda
Swami Adidevananda
Hindi
Swami Ramsukhdas
Sanskrit
Sri Ramanuja
Sri Madhavacharya
Sri Anandgiri
Sri Jayatirtha
Sri Abhinav Gupta
Sri Madhusudan Saraswati
Sri Sridhara Swami
Sri Dhanpati
Vedantadeshikacharya Venkatanatha
Sri Purushottamji
Sri Neelkanth
Sri Vallabhacharya
Detailed Commentary
**২.২২।** যথা পুরুষঃ জীর্ণানি বাসাংসি পরিত্যজ্য নবানি গৃহ্ণাতি তথা শরীরাণি জীর্ণানি পরিত্যজ্য নবানি সংযাতি দেহী। **ভাষ্য:** "বাসাংসি জীর্ণানি... সংযাতি নবানি দেহী" – এই অধ্যায়ের ত্রয়োদশ শ্লোকে সংক্ষেপে বলা হয়েছিল যে, শরীরান্তরপ্রাপ্তি বিষয়ে জ্ঞানীরা শোক করেন না। এখন সেই কথাটিই একটি দৃষ্টান্ত দ্বারা স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে: যেমন পুরুষ পুরাতন বস্ত্র পরিবর্তনে শোক করে না, তেমনি শরীর পরিবর্তনেও শোক করা উচিত নয়। বস্ত্র পরিবর্তন মানুষই করে, পশু-পাখি করে না; তাই বস্ত্র পরিবর্তনের এই দৃষ্টান্তে 'নরঃ' শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। এই 'নরঃ' শব্দটি মনুষ্যজাতি বোঝায় এবং এর মধ্যে সকলেই অন্তর্ভুক্ত – পুরুষ ও নারী, শিশু, যুবক, বৃদ্ধ ইত্যাদি। যেমন একজন মানুষ পুরাতন বস্ত্র ত্যাগ করে নতুন বস্ত্র পরিধান করে, তেমনি এই দেহী পুরাতন শরীর ত্যাগ করে নতুন শরীর গ্রহণ করে। পুরাতন শরীর ত্যাগ করাকে বলে 'মরা', আর নতুন শরীর গ্রহণ করাকে বলে 'জন্মানো'। প্রকৃতির সঙ্গে সংযোগ যতদিন থাকে, ততদিন এই দেহী পুরাতন শরীর ত্যাগ করে নিজ কর্ম অনুসারে বা মৃত্যুকালীন চিন্তা অনুসারে নতুন শরীর প্রাপ্ত হতে থাকে। এখানে 'শরীরাণি' (শরীরসমূহ) শব্দের বহুবচন রূপটি ইঙ্গিত করে যে, আত্মা যতদিন তার স্বরূপের যথার্থ জ্ঞান লাভ না করে, ততদিন সে অনন্তকাল ধরে শরীর গ্রহণ করতে থাকে। এখন পর্যন্ত সে কত শরীর গ্রহণ করেছে, তার সংখ্যা করাও সম্ভব নয়। এই বিষয়টি মনে রেখেই 'শরীরাণি' শব্দে বহুবচন ব্যবহার করা হয়েছে এবং 'দেহী' শব্দটি এখানে সমস্ত প্রাণীকে নির্দেশ করতে ব্যবহৃত হয়েছে। শ্লোকের প্রথমার্ধে জীর্ণ বস্ত্রের কথা বলা হয়েছে, দ্বিতীয়ার্ধে জীর্ণ শরীরের কথা। জীর্ণ বস্ত্রের উপমা শরীরের ক্ষেত্রে কীভাবে খাটে? কারণ শিশু ও যুবকের শরীরও তো মরে। শুধু বৃদ্ধের জীর্ণ শরীরই মরে, তা তো নয়! উত্তর হলো, শরীরের আয়ু নিঃশেষ হলেই শরীর মরে, আর আয়ুর নিঃশেষ হওয়াটাই শরীরের 'জীর্ণ' অবস্থা। সেটা শিশুর শরীর হোক, যুবকের শরীর হোক বা বৃদ্ধের শরীর হোক, আয়ু নিঃশেষ হলে সেগুলোই 'জীর্ণ' বলে গণ্য হবে। এই শ্লোকে 'যথা' ও 'তথা' শব্দ প্রয়োগ করে ভগবান বলেছেন: যেমন মানুষ পুরাতন বস্ত্র ত্যাগ করে নতুন বস্ত্র পরিধান করে, তেমনি এই দেহী পুরাতন শরীর ত্যাগ করে নতুন শরীরে গমন করে। এখানে একটি সন্দেহ উপস্থিত হয়। যেমন শৈশব, যৌবন ও বার্ধক্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঘটে, তেমনি শরীরান্তরপ্রাপ্তিও স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঘটে (২.১৩)। এখানে 'যথা' ও 'তথা' অসঙ্গতিপূর্ণ মনে হচ্ছে। কিন্তু (এই শ্লোকে) পুরাতন বস্ত্র ত্যাগ ও নতুন বস্ত্র পরিধানে মানুষের স্বাধীনতা থাকলেও, পুরাতন শরীর ত্যাগ ও নতুন শরীর গ্রহণে দেহীর তেমন স্বাধীনতা নেই। তাহলে 'যথা' ও 'তথা' এখানে কীভাবে প্রযোজ্য? সমাধান হলো, এখানে ভগবানের উদ্দেশ্য স্বাধীনতা বা পরাধীনতার কথা বলা নয়, বরং শরীর থেকে বিচ্ছেদজনিত শোক দূর করা। যেমন পরিধানকারী (মানুষ) পুরাতন বস্ত্র ত্যাগ ও নতুন বস্ত্র পরিধানের পরও একই থাকে, তেমনি পুরাতন শরীর ত্যাগ ও নতুন শরীরে গমনের পরও দেহী ঠিক একই থাকে, অলিপ্ত; তাই শোকের কোনো কারণ নেই। এই দৃষ্টিকোণ থেকে এই উপমা সম্পূর্ণ যথাযথ। দ্বিতীয় একটি সন্দেহ উপস্থিত হয়: পুরাতন বস্ত্র ত্যাগ ও নতুন বস্ত্র পরিধানে সুখ অনুভূত হয়, কিন্তু পুরাতন শরীর ত্যাগ ও নতুন শরীর গ্রহণে তো কষ্ট অনুভূত হয়। তাহলে 'যথা' ও 'তথা' এখানে কীভাবে খাটে? সমাধান হলো: শরীরের মৃত্যুসংক্রান্ত যে কষ্ট, সেটা মরার জন্য হয় না, বরং বাঁচার ইচ্ছার জন্যই হয়। 'আমি বাঁচি' এই ইচ্ছা ভিতরে থাকে, আর যখন মরতে হয়, তখন কষ্ট অনুভূত হয়। অর্থাৎ মানুষ যখন নিজেকে শরীরের সঙ্গে অভিন্ন বলে মনে করে, তখন শরীরের মৃত্যুকে নিজের মৃত্যু বলে মনে করে শোক করে। কিন্তু যে নিজেকে শরীরের সঙ্গে অভিন্ন বলে মনে করে না, তার মৃত্যুতে কষ্ট হয় না; বরং আনন্দই হয়! উদাহরণস্বরূপ, মানুষ নিজেকে বস্ত্রের সঙ্গে অভিন্ন বলে মনে করে না, তাই বস্ত্র পরিবর্তনে তার কোনো কষ্ট হয় না। কারণ সেখানে তার বিবেক স্পষ্ট জাগ্রত থাকে যে বস্ত্র আলাদা আর সে আলাদা। কিন্তু সেই একই বস্ত্র পরিবর্তন যদি কোনো শিশুর জন্য করা হয়, সে পুরাতন বস্ত্র খুলতে ও নতুন বস্ত্র পরতে গিয়েও কাঁদে। তার কষ্ট শুধুমাত্র মূর্খতার জন্য, অজ্ঞানতার জন্য। এই মূর্খতা দূর করতেই ভগবান এখানে 'যথা' ও 'তথা' শব্দ প্রয়োগ করে বস্ত্রের উপমা দিয়েছেন। এখানে বস্ত্র পরিধানের জন্য ভগবান 'গৃহ্ণাতি' (গ্রহণ করে/পরিধান করে) ক্রিয়া ব্যবহার করেছেন, কিন্তু শরীর গ্রহণের জন্য 'সংযাতি' (গমন করে) ক্রিয়া ব্যবহার করেছেন। ভগবান ক্রিয়ার এই পার্থক্য কেন করলেন? বৈদিক দৃষ্টিকোণ থেকে, অজ্ঞানতাবশত মনে হয় যে মানুষ নিজ স্থানে থাকেই বস্ত্র পরিধান করে, অপরদিকে শরীরান্তরপ্রাপ্তিতে দেহীকে সেইসব শরীরে গমন করতে হয়। এই বৈদিক দৃষ্টিকোণটিকেই সামনে রেখে ভগবান ক্রিয়ার পার্থক্য করেছেন। **বিশেষ দিক:** গীতায় 'যেন সর্বমিদং ততম' (২.১৭), 'নিত্যঃ সর্বগতঃ স্থাণুঃ' (২.২৪) ইত্যাদি শব্দ প্রয়োগ করে দেহীকে সর্বব্যাপী, নিত্য, সর্বগত ও স্থির স্বভাবের বলে বর্ণনা করা হয়েছে; এবং 'সংযাতি নবানি দেহী' (২.২২), 'শরীরং যদবাপ্নোতি' (১৫.৮) ইত্যাদি শব্দ প্রয়োগ করে দেহীকে অন্য শরীরে গমনকারী বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তাহলে যে সর্বব্যাপী, সর্বগত, তার আবার গমনাগমন কীভাবে সম্ভব? কারণ গমন বলা হয় তার, যে কোনো স্থানে নেই সেখানে যায়; আর আগমন বলা হয় তার, যে অন্য স্থানে আছে এখানে আসে। কিন্তু দেহীর ক্ষেত্রে এ দুটোর কোনোটাই প্রযোজ্য নয়! সমাধান হলো: যেমন কারোর শৈশব পরিবর্তিত হয়ে যৌবন হলে সে বলে, 'আমি যুবক হলাম'। কিন্তু বাস্তবে সে নিজে যুবক হয়নি; বরং তার শরীর যুবক হয়েছে। তাই শৈশবে যা ছিল, যৌবনেও তা-ই থাকে; যৌবনেও সে সেই একই। কিন্তু শরীরের সঙ্গে অভিন্নতা জ্ঞান করার দরুন শরীরের পরিবর্তনকে নিজের উপর আরোপ করে। তেমনি গমনাগমন প্রকৃতপক্ষে শরীরের ধর্ম, কিন্তু শরীরের সঙ্গে অভিন্নতা জ্ঞান করার দরুন সেগুলোকে নিজের গমনাগমন বলে মনে করে। তাই বাস্তবে দেহী কোথাও যায় না বা আসে না; শরীরের সঙ্গে অভিন্নতা জ্ঞান করার দরুনই গমনাগমনের ভাব প্রকাশ পায়। এখন প্রশ্ন উঠছে: এই অনাদিকাল ধরে চলা জন্ম-মৃত্যুর চক্রের কারণ কী? কর্মের দৃষ্টিকোণ থেকে জন্ম-মৃত্যু হয় পুণ্য-পাপ কর্মের ফল ভোগের জন্য; জ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে জন্ম-মৃত্যু হয় অজ্ঞানতার জন্য; আর ভক্তির দৃষ্টিকোণ থেকে জন্ম-মৃত্যু হয় ঈশ্বর থেকে বিমুখ হওয়ার জন্য। এই তিনটির মধ্যে প্রধান কারণ হলো, ঈশ্বর আত্মাকে যে স্বাধীনতা দিয়েছেন, তার অপপ্রয়োগ করার দরুন জন্ম-মৃত্যু ঘটছে। এখন সেই জন্ম-মৃত্যু কীভাবে নিবৃত্ত হবে? প্রদত্ত স্বাধীনতাকে সদুপায়ে প্রয়োগ করলে জন্ম-মৃত্যু নিবৃত্ত হবে। অর্থাৎ স্বার্থের জন্য কর্ম করার দরুন জন্ম-মৃত্যু ঘটেছে; তাই স্বার্থ ত্যাগ করে পরহিতের জন্য কর্ম করলে জন্ম-মৃত্যু নিবৃত্ত হবে। আত্মজ্ঞানের প্রতি অশ্রদ্ধা করার দরুন জন্ম-মৃত্যু ঘটেছে; তাই আত্মজ্ঞানের প্রতি শ্রদ্ধা করলে জন্ম-মৃত্যু নিবৃত্ত হবে। ঈশ্বর থেকে বিমুখ হওয়ার দরুন জন্ম-মৃত্যু ঘটেছে; তাই ঈশ্বরের প্রতি অনুরক্ত হলে জন্ম-মৃত্যু নিবৃত্ত হবে। **সংশ্লেষ:** দৃষ্টান্ত দ্বারা আত্মার অভেদতা বর্ণনা করার পর, এখন পরবর্তী তিনটি শ্লোকে অন্য প্রকারে সেই একই বিষয় বর্ণনা করা হচ্ছে।