অতএব, হে মহাবাহো, যার ইন্দ্রিয়সমূহ বিষয়বস্তু থেকে সম্পূর্ণরূপে নিবৃত্ত, তারই প্রজ্ঞা সুপ্রতিষ্ঠিত হয়।
ব্যাখ্যা – 'অতএব... যার প্রজ্ঞা প্রতিষ্ঠিত' – ষষ্ট শ্লোক থেকে চলমান মন ও ইন্দ্রিয় নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি উপসংহারে 'অতএব' শব্দটি ইঙ্গিত করছে যে, যার মন ও ইন্দ্রিয়গুলিতে জগতের প্রতি কোন আকর্ষণ অবশিষ্ট নেই, তারই প্রজ্ঞা সুপ্রতিষ্ঠিত হয়।
এখানে 'সম্পূর্ণরূপে' শব্দটি ব্যবহারের উদ্দেশ্য হলো – তিনি পার্থিব আচার-ব্যবহারে নিযুক্ত থাকুন বা নির্জনে ধ্যানে মগ্ন থাকুন, কোন অবস্থাতেই তার ইন্দ্রিয়গুলি ভোগ বা বিষয়বস্তুর দিকে ঝুঁকে পড়ে না। পার্থিব লেনদেনের সময় যতই বস্তু তার সংস্পর্শে আসুক না কেন, সেই বস্তুগুলি তাকে বিচলিত করতে পারে না। তার মনও ইন্দ্রিয়গুলির সাথে সংযুক্ত হয়ে তার বুদ্ধিকে বিচলিত করতে পারে না। যেমন কেউ কোন পর্বতকে নাড়াতে পারে না, তেমনি তার বুদ্ধিতে এমন দৃঢ়তা জন্মায় যে কোন অবস্থাতেই মন তাকে টলাতে পারে না। কারণ তার মনে বস্তুগুলির কোন গুরুত্বই থাকে না।
'নিগৃহীতানি' অর্থ হলো ইন্দ্রিয়গুলি বিষয়বস্তু থেকে সম্পূর্ণরূপে নিয়ন্ত্রিত, অর্থাৎ বস্তুর প্রতি লিপ্সা, আকর্ষণ বা টানের সামান্যতম চিহ্নও অবশিষ্ট থাকে না। যেমন কোন সাপের বিষদাঁত উপড়ে ফেলা হলে তার মধ্যে আর কোন বিষ থাকে না। সে কাউকে কামড়ালেও তার কোন প্রভাব পড়ে না। তেমনি, ইন্দ্রিয়গুলিকে রাগ-দ্বেষমুক্ত করে তোলা হলো তাদের বিষদাঁত উপড়ে ফেলার সমান। তখন সেই ইন্দ্রিয়গুলির আর সাধককে পতনের পথে নিয়ে যাওয়ার শক্তি থাকে না।
এই শ্লোকের তাৎপর্য হলো, সাধকের দৃঢ় সংকল্প হওয়া উচিত যে আমার লক্ষ্য হলো ঈশ্বরলাভ; ভোগ করা ও সম্পদ সঞ্চয় করা আমার লক্ষ্য নয়। সাধকের মধ্যে যদি এইরূপ সতর্কতা নিরন্তর বজায় থাকে, তবে তার বুদ্ধি স্থির হবে।
সংশ্লিষ্টতা – যার ইন্দ্রিয় সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রিত তার সঙ্গে সাধারণ মানুষের পার্থক্য কী? এটি পরবর্তী শ্লোকে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
★🔗