অতএব, আমাদের পক্ষে আত্মীয়স্বজন, এই ধৃতরাষ্ট্রপুত্রদের বধ করা উচিত নয়; কারণ, হে মাধব, আত্মীয়স্বজনকে হত্যা করে আমরা কেমন করে সুখী হতে পারি?
**ব্যাখ্যা:**
"অতএব, আমাদের পক্ষে আত্মীয়স্বজন, এই ধৃতরাষ্ট্রপুত্রদের বধ করা উচিত নয়" — এ পর্যন্ত (শ্লোক ১.২৮ থেকে বর্তমান পর্যন্ত) আমি আত্মীয়হত্যা না করার জন্য যেসব যুক্তি, বিচার ও চিন্তা উপস্থাপন করেছি, তা বিবেচনা করে আমরা কীভাবে এমন সর্বনাশা কাজে প্রবৃত্ত হতে পারি? আমাদের আত্মীয়স্বজন, এই ধৃতরাষ্ট্রের জ্ঞাতিদের হত্যা করা আমাদের পক্ষে একেবারেই অনুচিত ও অযথার্থ। আমাদের মতো মহানুভব ব্যক্তিরা কীভাবে এমন অকর্তব্য কাজ করতে পারে?
"কারণ, হে মাধব, আত্মীয়স্বজনকে হত্যা করে আমরা কেমন করে সুখী হতে পারি?" — হে মাধব! তাদের মৃত্যুর সম্ভাবনা মাত্রই আমাদের অত্যন্ত শোক ও যন্ত্রণা দিচ্ছে। সুতরাং যদি ক্রোধ ও লোভের বশবর্তী হয়ে আমরা তাদের হত্যা করি, তাহলে সেই শোক কত গভীর হবে! তাদের হত্যার পর আমরা কখনই সুখী হতে পারব কীভাবে?
এখানে, মোহজাত আবেগের কারণে "এরা আমাদের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়" এই চিন্তায় অর্জুনের দৃষ্টি একেবারেই তাঁর ক্ষত্রিয়ধর্মের দিকে ফিরছে না। কারণ হলো, যেখানে মোহ থাকে, সেখানে ব্যক্তির বিবেক দমিত হয়। বিবেক দমিত হলে মোহ শক্তিশালী হয়। মোহ শক্তিশালী হলে নিজের কর্তব্য সম্পর্কে স্পষ্ট জ্ঞান থাকে না।
**সম্পর্ক:**
এখানে একটি সন্দেহ জাগে: যেমন দুর্যোধন প্রমুখ তোমার আত্মীয়, তেমনই দুর্যোধন প্রমুখের কাছেও তুমি তাদের আত্মীয়। আত্মীয়তার দৃষ্টিকোণ থেকে তুমি যুদ্ধ থেকে নিবৃত্ত হওয়ার চিন্তা করছ, কিন্তু দুর্যোধন প্রমুখ যুদ্ধ থেকে নিবৃত্ত হওয়ার চিন্তাও করছে না — এর কারণ কী? অর্জুন পরবর্তী দুটি শ্লোকে এর উত্তর দিয়েছেন।
★🔗