**২.৩২।** "যে যুদ্ধ তোমার সম্মুখে স্বয়ং উপস্থিত হয়েছে, তাই স্বর্গের দ্বারও উন্মুক্ত করে দিয়েছে। হে পৃষ্ঠানন্দন, যে ক্ষত্রিয়গণ এমন যুদ্ধ লাভ করেন, তারা পরম সৌভাগ্যবান।"
**ব্যাখ্যা:** 'যদৃচ্ছয়া চোপপন্নং স্বর্গদ্বারমপাবৃতম'—পাণ্ডবদের সঙ্গে পাশা খেলায় দুর্যোধন এই শর্ত রেখেছিলেন যে, তারা পরাজিত হলে বারো বছর বনবাস এবং এক বছর অজ্ঞাতবাস ভোগ করবেন। ত্রয়োদশ বছর শেষে তারা তাদের রাজ্য ফিরে পাবেন। কিন্তু অজ্ঞাতবাসের সময় যদি তাদের পরিচয় প্রকাশিত হয়, তবে আবার বারো বছর বনবাস ভোগ করতে হবে। পাশায় পরাজিত হয়ে পাণ্ডবরা শর্তানুযায়ী বারো বছর বনবাস ও এক বছর অজ্ঞাতবাস সম্পূর্ণ করেন। এরপর তারা যখন তাদের রাজ্য ফিরে চাইলেন, দুর্যোধন বললেন যে, যুদ্ধ ছাড়া তিনি সুচের ডগা পরিমাণ জমিও দেবেন না। দুর্যোধন এমন কথা বলার পরও পাণ্ডবদের পক্ষ থেকে বারবার শান্তি প্রস্তাব দেওয়া হয়, কিন্তু দুর্যোধন তাদের সঙ্গে শান্তি স্থাপনে রাজি হননি। তাই ভগবান অর্জুনকে বলছেন যে, এই যুদ্ধ তোমার কাছে স্বয়ংপ্রাপ্ত হয়ে এসেছে। এমন স্বয়ংপ্রাপ্ত ধর্মযুদ্ধে বীরোচিত মৃত্যুবরণকারী ক্ষত্রিয় বীরের জন্য স্বর্গের দ্বার সর্বদা উন্মুক্ত থাকে। 'সুখিনঃ ক্ষত্রিয়াঃ পার্থ লভন্তে যুদ্ধমীদৃশম'—যে ক্ষত্রিয়গণ এমন ধর্মযুদ্ধ লাভ করেন, তারা পরম সৌভাগ্যবান। এখানে তাদের 'সৌভাগ্যবান' বলার অর্থ হলো, স্বীয় কর্তব্য পালনে যে আনন্দ নিহিত থাকে, তা ভোগবিলাসে পাওয়া যায় না। পশু-পাখিরাও ভোগসুখ অনুভব করে। তাই যারা স্বীয় কর্তব্য পালনের সুযোগ লাভ করেছেন, তাদেরই অত্যন্ত ভাগ্যবান বলে গণ্য করা উচিত।
**সংশ্লিষ্টতা:** পরবর্তী চার শ্লোকে যুদ্ধ না করার পরিণতি বর্ণনা করা হয়েছে।
★🔗