২.৩৭। হে কৌন্তেয়, যদি তুমি যুদ্ধে নিহত হও, তবে স্বর্গলাভ করবে; আর যদি যুদ্ধে জয়ী হও, তবে পৃথিবীর রাজ্য ভোগ করবে। অতএব, যুদ্ধে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হয়ে উঠে দাঁড়াও।
**ভাষ্য:** "হত হলে স্বর্গ, জয়ী হলে পৃথিবী ভোগ" — এই অধ্যায়েরই ষষ্ঠ শ্লোকে অর্জুন বলেছিলেন, আমরা জানিও না যুদ্ধে আমরা তাদের জয় করব, না তারা আমাদের জয় করবে। অর্জুনের সেই সংশয়কে সামনে রেখে ভগবান এখানে স্পষ্ট বলছেন, যদি তুমি কর্ণপ্রমুখদের হাতে যুদ্ধে নিহত হও, তবে স্বর্গে গমন করবে; আর যদি যুদ্ধে জয়ী হও, তবে এই পৃথিবীর রাজ্য ভোগ করবে। সুতরাং উভয় হাতেই তোমার লাভ। সারকথা হলো, যুদ্ধে প্রবৃত্ত হলে কেবল উভয় দিকেই লাভ, আর যুদ্ধে প্রবৃত্ত না হলে কেবল উভয় দিকেই ক্ষতি। তাই তুমি যুদ্ধে প্রবৃত্ত হও।
"অতএব, হে কৌন্তেয়, যুদ্ধে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হয়ে উঠে দাঁড়াও" — এখানে 'কৌন্তেয়' সম্বোধন ব্যবহারের উদ্দেশ্য হলো, আমি যখন কৌরবদের কাছে শান্তি প্রস্তাব নিয়ে গিয়েছিলাম, তখন তোমার মাতা কুন্তী তোমার জন্যই এই বার্তা পাঠিয়েছিলেন যে, তোমাকে যুদ্ধ করতেই হবে। তাই তুমি যুদ্ধ থেকে সরে দাঁড়াবে না; বরং যুদ্ধে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হয়ে উঠে দাঁড়াবে।
অর্জুন যুদ্ধ না করার প্রতিজ্ঞায় দৃঢ় ছিলেন, আর ভগবান এই অধ্যায়ের তৃতীয় শ্লোকেই যুদ্ধের আদেশ দিয়েছিলেন। এতে অর্জুনের মনে সংশয় জেগেছিল — যুদ্ধ করা উচিত, না না করা উচিত? তাই এখানে ভগবান সেই সংশয় দূর করে বলছেন: যুদ্ধ করার এক দৃঢ় সংকল্প কর, এ নিয়ে কোনো সংশয় রেখো না।
এখানে ভগবানের অভিপ্রায় এইরূপ প্রতীয়মান হয় যে, মানুষকে কোনো অবস্থাতেই তার কর্তব্য পরিত্যাগ করা উচিত নয়; বরং উৎসাহ ও যত্ন সহকারেই কর্তব্য পালন করা উচিত। কর্তব্য পালনেই মানুষের মানবতা নিহিত।
★🔗