**অনুবাদ:**
হে রাজন্! কাশীরাজ মহাধনুর্ধর এবং মহাবীর শিখণ্ডী, আর ধৃষ্টদ্যুম্ন ও বিরাটরাজ, এবং অজেয় সাত্যকি, দ্রুপদরাজ ও দ্রৌপদীর পঞ্চপুত্র, এবং সুভদ্রানন্দন অভিমন্যু, দীর্ঘবাহু—এই সকল মহাবীর চতুর্দিক হইতে আপন আপন শঙ্খ ধ্বনিত করিলেন।
**ব্যাখ্যা:** মহাবীর শিখণ্ডী অত্যন্ত বীর ছিলেন। পূর্বজন্মে তিনি নারী ছিলেন (কাশীরাজের কন্যা অম্বা রূপে) এবং এই জন্মেও তিনি দ্রুপদরাজের কন্যা রূপেই প্রাপ্ত হন। পরে সেই শিখণ্ডীই স্থূণাকর্ণ নামক যক্ষের নিকট পুরুষত্ব প্রাপ্ত হয়ে পুরুষ হন। ভীষ্ম এই সমস্ত তথ্য জানতেন এবং শিখণ্ডীকে নারীজ্ঞান করতেন। সেই কারণে তিনি শিখণ্ডীর প্রতি বাণ নিক্ষেপ করিতেন না। যুদ্ধের সময় অর্জুন তাঁকে সম্মুখে স্থাপন করে ভীষ্মের প্রতি বাণ নিক্ষেপ করলে, ভীষ্ম রথ হইতে পতিত হন।
অর্জুনের পুত্র অভিমন্যু অত্যন্ত বীর ছিলেন। যুদ্ধের সময় দ্রোণাচার্য রচিত চক্রব্যূহে প্রবেশ করে তিনি স্বীয় পরাক্রমে অনেক বীরকে বিনাশ করেন। অবশেষে কৌরবসেনার ছয়জন মহাবীর অন্যায়ভাবে তাঁকে পরিবেষ্টন করে অস্ত্রাঘাতে আক্রমণ করেন। দুঃশাসনের পুত্রের গদাঘাতে তাঁহার মস্তকে আঘাত লাগিলে, তাঁহার মৃত্যু ঘটে।
শঙ্খধ্বনি বর্ণনা প্রসঙ্গে সংজয় কৌরবসেনার বীরগণের মধ্যে কেবল ভীষ্মের নাম উল্লেখ করিয়াছেন, আর পাণ্ডবসেনার বীরগণের মধ্যে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ, অর্জুন, ভীম প্রভৃতি আঠারোজন বীরের নাম উল্লেখ করিয়াছেন। ইহা হইতে প্রতীয়মান হয় যে, সংজয়ের মনে অধর্মপক্ষের (কৌরবসেনার) প্রতি শ্রদ্ধা নাই। সেইজন্য অধর্মপক্ষের বর্ণনা অধিক পরিমাণে করা উচিত মনে করেন না। কিন্তু তাঁর মনে ধর্মপক্ষের (পাণ্ডবসেনার) প্রতি শ্রদ্ধা আছে এবং ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ও পাণ্ডবগণের প্রতি ভক্তি আছে বলিয়া, তাঁহাদের পক্ষের বর্ণনা অধিক পরিমাণে করা উচিত মনে করেন এবং তাঁহাদের পক্ষের বর্ণনাতেই আনন্দ অনুভব করেন।
**সন্দর্ভ:** পাণ্ডবসেনার শঙ্খধ্বনির কৌরবসেনার উপর কি প্রভাব পড়িল, তাহা পরবর্তী শ্লোকে উক্ত হইয়াছে।
★🔗