BG 2.29 — সাংখ্য যোগ
BG 2.29📚 Go to Chapter 2
आश्चर्यवत्पश्यतिकश्चिदेन-माश्चर्यवद्वदतितथैवचान्यः|आश्चर्यवच्चैनमन्यःशृणोतिश्रुत्वाप्येनंवेदचैवकश्चित्||२-२९||
আশ্চর্যবৎপশ্যতি কশ্চিদেন- মাশ্চর্যবদ্বদতি তথৈব চান্যঃ | আশ্চর্যবচ্চৈনমন্যঃ শৃণোতি শ্রুত্বাপ্যেনং বেদ ন চৈব কশ্চিৎ ||২-২৯||
आश्चर्यवत्पश्यति: as a wonder | कश्चिदेन: any one | माश्चर्यवद्वदति: as a wonder | तथैव: so | चान्यः: and | आश्चर्यवच्चैनमन्यः: as a wonder | शृणोति: hears | श्रुत्वाप्येनं: having heard | वेद: knows | न: not | चैव: and | कश्चित्: any one
GitaCentral বাংলা
কেউ ইহাকে আশ্চর্যের ন্যায় দেখে; কেউ ইহাকে আশ্চর্যের ন্যায় বলে; অন্য কেউ ইহাকে আশ্চর্যের ন্যায় শোনে; কিন্তু শুনিয়াও কেহ ইহাকে জানে না।
🙋 বাংলা Commentary
শব্দার্থ: आश्चर्यवत् - বিস্ময়ের মতো, पश्यति - দেখে, कश्चित् - কেউ, एनम् - ইহাকে (আত্মাকে), वदति - বলে, तथा - সেইভাবে, एव - ও, च - এবং, अन्यः - অন্য কেউ, श्रृणोति - শোনে, श्रुत्वा - শুনেও, अपि - যদিও, वेद - জানে, न - না। স্বামী শিবানন্দের ব্যাখ্যা: এই শ্লোকটিকে এইভাবেও ব্যাখ্যা করা যেতে পারে। যিনি আত্মাকে দেখেন, শোনেন এবং তার সম্পর্কে বলেন, তিনি একজন বিস্ময়কর মানুষ। এমন মানুষ খুব বিরল। হাজার হাজার মানুষের মধ্যে একজন এমন হন। তাই, আত্মাকে বোঝা খুব কঠিন।
English
Swami Gambirananda
Swami Adidevananda
Hindi
Swami Ramsukhdas
Sanskrit
Sri Ramanuja
Sri Madhavacharya
Sri Anandgiri
Sri Jayatirtha
Sri Abhinav Gupta
Sri Madhusudan Saraswati
Sri Sridhara Swami
Sri Dhanpati
Vedantadeshikacharya Venkatanatha
Sri Purushottamji
Sri Neelkanth
Sri Vallabhacharya
Detailed Commentary
২.২৯। কেহ ইহাকে আশ্চর্যরূপে দর্শন করেন, কেহ ইহাকে আশ্চর্যরূপে বর্ণনা করেন, কেহ ইহাকে আশ্চর্যরূপে শ্রবণ করেন, এবং কেহবা শ্রবণ করিয়াও ইহাকে জানেন না। অর্থাৎ, এই দেহস্থ আত্মাকে জানা অত্যন্ত দুর্লভ। ভাষ্য: 'আশ্চর্যবৎ পশ্যতি কশ্চিদেনম' – কেহ এই দেহস্থ আত্মাকে আশ্চর্যরূপে জানেন। অর্থ এই যে, এই দেহস্থ আত্মাকে অন্য বস্তুর ন্যায় দর্শন, শ্রবণ, অধ্যয়ন ও জ্ঞানের দ্বারা জানা যায় না। কারণ, অন্য বস্তু 'ইদন্তা'র (এইরূপ) দ্বারা জানা যায়, অর্থাৎ সেগুলি জ্ঞানের বিষয় হয়, কিন্তু এই দেহস্থ আত্মা ইন্দ্রিয়, মন বা বুদ্ধির বিষয় নয়। ইহা কেবল স্বয়ং দ্বারা, স্বয়ংরূপেই জানা যায়। স্বয়ং দ্বারা যে জ্ঞান হয়, তাহা পার্থিব জ্ঞানের ন্যায় নয়; বরং একেবারে স্বতন্ত্র ও অভিনব। 'পশ্যতি' শব্দের দুই অর্থ – চক্ষু দ্বারা দেখা, এবং স্বয়ং দ্বারা স্বয়ংকে জানা। এখানে 'পশ্যতি' শব্দটি স্বয়ং দ্বারা স্বয়ংকে জানার অর্থেই প্রযুক্ত (গীতা ২.৫৫, ৬.২০ ইত্যাদি দ্রষ্টব্য)। যেখানে চক্ষুপ্রভৃতি যন্ত্র দ্বারা জ্ঞান হয়, সেখানে দ্রষ্টা (যে দেখে), দৃশ্য (যাহা দেখা যায়) ও দর্শন (দেখার শক্তি) – এই ত্রয়ী থাকে। সমস্ত পার্থিব দর্শন/জ্ঞান এই ত্রয়ীর মাধ্যমেই ঘটে। কিন্তু আত্মজ্ঞানে এই ত্রয়ী থাকে না; অর্থাৎ আত্মজ্ঞান কোন যন্ত্রের উপর নির্ভরশীল নয়। আত্মজ্ঞান কেবল আত্মার দ্বারাই হয়; সেই জ্ঞান কোন যন্ত্রের অধীন নয়। যেমন, 'আমি আছি' এই জ্ঞান – নিজের অস্তিত্বের এই জ্ঞানের জন্য কোন প্রমাণ বা কোন যন্ত্রের প্রয়োজন হয় না। এই অবস্থাকে 'ইদন্তা'র দ্বারা, অর্থাৎ বিষয়রূপে দেখা যায় না। ইহার জ্ঞান কেবল স্বয়ংরূপেই ঘটে। এই জ্ঞান ইন্দ্রিয় বা বুদ্ধি দ্বারা উৎপন্ন হয় না। তাই স্বয়ংকে জানা (স্বয়ং দ্বারা) এক আশ্চর্যের ন্যায়। যেমন আমরা যখন অন্ধকার ঘর হইতে কোন বস্তু আনিতে যাই, তখন আমাদের আলো ও চক্ষু উভয়েরই প্রয়োজন হয় – অর্থাৎ, সেই অন্ধকার ঘরে আলোর সাহায্যে আমরা সেই বস্তুকে চক্ষু দ্বারা দেখিব ও পরে আনিব। কিন্তু যদি কোথাও প্রদীপ জ্বলিতেছে এবং আমরা সেই প্রদীপ দেখিতে যাই, তবে তাহাকে দেখিতে অন্য প্রদীপের প্রয়োজন হইবে না, কারণ প্রদীপ স্বপ্রকাশ। সে স্বয়ং দ্বারা স্বয়ংকে প্রকাশ করে। তেমনই নিজের স্বরূপকে দেখিতে অন্য কোন আলোর প্রয়োজন হয় না, কারণ এই দেহস্থ আত্মা (স্বরূপ) স্বপ্রকাশ। তাই ইহা কেবল স্বয়ং দ্বারা স্বয়ংকেই জানে। তিনটি শরীর আছে – স্থূল, সূক্ষ্ম ও কারণ। স্থূল শরীর অন্ন ও জল দ্বারা নির্মিত। এই স্থূল শরীর ইন্দ্রিয়ের বিষয়। এই স্থূল শরীরের ভিতরে সূক্ষ্ম শরীর আছে, যাহা পাঁচ জ্ঞানেন্দ্রিয়, পাঁচ কর্মেন্দ্রিয়, পাঁচ প্রাণ, মন ও বুদ্ধি – এই সতেরোটি তত্ত্ব দ্বারা গঠিত। এই সূক্ষ্ম শরীর ইন্দ্রিয়ের বিষয় নয়, বরং বুদ্ধির বিষয়। যাহা বুদ্ধিরও বিষয় নয়, যাহাতে প্রকৃতি নিহিত থাকে, তাহাই কারণ শরীর। এই তিন শরীরের প্রতি চিন্তা করিলে, এই স্থূল শরীর আমার স্বরূপ নয়, কারণ ইহা প্রতিক্ষণ পরিবর্তিত হয় এবং জানা যায়। সূক্ষ্ম শরীরও পরিবর্তিত হয় ও জানা যায়; তাই সেও আমার স্বরূপ নয়। কারণ শরীর প্রকৃতিস্বরূপ, কিন্তু দেহস্থ আত্মা (স্বরূপ) প্রকৃতিরও অতীত; তাই কারণ শরীরও আমার স্বরূপ নয়। যখন এই দেহস্থ আত্মা, প্রকৃতিকে ত্যাগ করিয়া, নিজ স্বরূপে প্রতিষ্ঠিত হয়, তখন সে স্বয়ং দ্বারা স্বয়ংকে জানে। এই জ্ঞান পার্থিব বস্তু জানার তুলনায় একেবারে স্বতন্ত্র; তাই ইহাকে 'আশ্চর্যবৎ পশ্যতি' বলা হয়। এখানে ভগবান বলিতেছেন যে, কেবল কেহ, একজন দুর্লভ ব্যক্তি ('কশ্চিৎ'), স্বয়ংকে অনুভব করেন। আরও, সপ্তম অধ্যায়ের তৃতীয় শ্লোকে একই কথা বলা হইয়াছে: কেবল কেহ, একজন দুর্লভ ব্যক্তি, আমাকে তত্ত্বতঃ জানে ('কশ্চিন্মাং বেত্তি তত্ত্বতঃ')। এই কথাগুলি শুনিয়া মনে হইতে পারে যে, এই অবিনাশী তত্ত্বকে জানা অত্যন্ত কঠিন, দুর্লভ। কিন্তু বাস্তবে তাহা নহে। এই তত্ত্বকে জানা কঠিন নয়, দুর্লভ নয়; বরং যাহারা একান্ত হৃদয়ে ইহাকে জানিতে প্রবৃত্ত হয়, তাহাদেরই অভাব। এই অভাব কেবল জানিবার ইচ্ছার অভাবে হয়। 'আশ্চর্যবদ্বদতি তথৈব চান্যঃ' – সেইরূপ অন্য একজন ব্যক্তি এই দেহস্থ আত্মাকে আশ্চর্যরূপে বর্ণনা করেন, কারণ এই তত্ত্ব বাক্যের বিষয় নহে। যে বাক্য স্বয়ং তাহার দ্বারাই প্রকাশিত, সে বাক্য কি প্রকারে তাহাকে বর্ণনা করিবে? এই তত্ত্বকে বর্ণনা করেন যে মহাত্মা, তিনি বাক্যের দ্বারা কেবল ইঙ্গিতই করেন, যেমন ডাল দ্বারা চন্দ্রের দিকে নির্দেশ করিয়া শ্রোতার মনোযোগ সেই দিকে আকর্ষণ করা হয়। তাই ইহার বর্ণনা এক আশ্চর্যের ন্যায়। এখানে 'অন্য:' শব্দের অর্থ এই নহে যে, বর্ণনাকারী ও জ্ঞানী ব্যক্তি ভিন্ন, কারণ যিনি স্বয়ংকে জানেন নাই, তিনি কি বর্ণনা করিবেন? তাই এই শব্দের অর্থ এই যে, সমস্ত জ্ঞানীর মধ্যেও কেবল কেহ, একজন দুর্লভ ব্যক্তিই বর্ণনাকারী। কারণ, সকল সিদ্ধ, জ্ঞানী মহাত্মা সেই তত্ত্ব বিশ্লেষণ করিয়াও শ্রোতাকে সেই তত্ত্বে উপনীত করাইতে পারেন না। তাঁহার সমস্ত সন্দেহ ও যুক্তির নিরসন করিবার পূর্ণ সামর্থ্য তাঁহাদের নাই। তাই এই 'অন্য:' শব্দটি বর্ণনাকারীর বিশেষ সামর্থ্যকেই নির্দেশ করিবার জন্য দেওয়া হইয়াছে। 'আশ্চর্যবচ্চৈনমন্যঃ শ্রৃণোতি' – অন্য একজন ব্যক্তি এই দেহস্থ আত্মাকে আশ্চর্যরূপে শ্রবণ করেন। অর্থ এই যে, শ্রোতা শাস্ত্র ও লোকাচার হইতে যাহা কিছু শুনিয়াছেন, এই দেহস্থ আত্মার আলোচনা তাহার তুলনায় স্বতন্ত্র বলিয়া মনে করেন। কারণ, অপর যাহা শুনিয়াছেন, তাহা সমস্তই ইন্দ্রিয়, মন, বুদ্ধি প্রভৃতির বিষয়, কিন্তু এই দেহস্থ আত্মা ইন্দ্রিয়াদির বিষয় নহে; বরং ইন্দ্রিয়াদির বিষয়কে প্রকাশ করে। তাই তিনি দেহস্থ আত্মার এই স্বতন্ত্র আলোচনাকে আশ্চর্যরূপে শ্রবণ করেন। এখানে 'অন্য:' শব্দ দেওয়ার উদ্দেশ্য এই যে, শ্রোতা (তত্ত্বান্বেষী) জ্ঞানী ও বক্তা উভয় হইতেই পৃথক। 'শ্রুত্বাপ্যেনং বেদ ন চৈব কশ্চিৎ' – শ্রবণ করিয়াও ইহাকে কেহ জানে না। ইহার অর্থ এই নহে যে, শ্রবণ করিলে তিনি কখনও জানিবেন না। ইহার অর্থ এই যে, কেবল শ্রবণের দ্বারা কেহ ইহাকে জানিতে পারে না। শ্রবণের পর, যখন তিনি স্বয়ং ইহাতে প্রতিষ্ঠিত হন, তখন তিনি স্বয়ং দ্বারা স্বয়ংকে জানিবেন (দ্রষ্টব্য পৃষ্ঠা ৬৯)। এখানে কেহ জিজ্ঞাসা করিতে পারেন: শাস্ত্র ও গুরু হইতে শ্রবণ করিয়াই তো জ্ঞান লাভ হয়, তবে এখানে কেন বলা হইল যে শ্রবণ করিয়াও কেহ জানে না? এই বিষয়ে একটু গভীরভাবে চিন্তা করি: শাস্ত্রে বিশ্বাস শাস্ত্র নিজে জন্মায় না, এবং গুরুতে বিশ্বাস গুরু নিজে জন্মায় না। বরং সাধক নিজেই শাস্ত্রে ও গুরুতে বিশ্বাস ও শ্রদ্ধা রাখেন; তিনি নিজেই তাঁহাদের সম্মুখে আসেন। যদি নিজে অগ্রসর না হইয়াই জ্ঞান ঘটিতে পারিত, তবে এতদিন অনেক দিব্যাবতার, মহাজীবন্মুক্ত ব্যক্তি আসিয়াছেন; তাঁহাদের সম্মুখে কোন অজ্ঞ ব্যক্তি থাকিত না। অর্থাৎ, সকলেই তত্ত্বজ্ঞান লাভ করিতেন, কিন্তু তাহা দেখা যায় না। বিশ্বাস ও শ্রদ্ধার সহিত শ্রবণ নিশ্চয়ই নিজ স্বরূপে প্রতিষ্ঠিত হইতে সাহায্য করে, কিন্তু সেই স্বরূপে প্রতিষ্ঠিত হয় কেবল স্বয়ং দ্বারা। তাই উপরোক্ত বাক্যের অর্থ আত্মজ্ঞানকে অসম্ভব বলিয়া ঘোষণা করা নহে, বরং ইহাকে সকল যন্ত্র হইতে স্বতন্ত্র বলিয়া ঘোষণা করা। মানুষ যতই কোন পদ্ধতিতে তত্ত্ব জানিতে চেষ্টা করুক, শেষে সে স্বয়ং দ্বারা স্বয়ংকেই জানিবে। শ্রবণ, মনন প্রভৃতিকে তত্ত্বজ্ঞানের পারম্পরিক সাধন বলা যাইতে পারে, কিন্তু প্রকৃত উপলব্ধি কোন যন্ত্রের অধীন নয় (স্বয়ং দ্বারা)। স্বয়ং দ্বারা স্বয়ংকে জানা কাহাকে বলে? এক করিতেছে, এক দেখিতেছে, এবং এক জানিতেছে। করিতে কর্মেন্দ্রিয় প্রধান; দেখিতে জ্ঞানেন্দ্রিয় প্রধান; এবং জানিতে আত্মাই প্রধান। জ্ঞানেন্দ্রিয় দ্বারা জানা প্রকৃতপক্ষে জানা নয়, বরং দেখা, যাহা ব্যবহারিক কার্যে কাজে লাগে। আত্মা দ্বারা যে জ্ঞান হয়, তাহা দুই প্রকার: এক, আমি সর্বদা দেহ ও জগৎ হইতে পৃথক; এবং দুই, আমি সর্বদা পরমাত্মা হইতে অভিন্ন। অন্য কথায়, পরিবর্তনশীল, বিনাশী বস্তুর সহিত আমার বিন্দুমাত্র সম্বন্ধ নাই, এবং অপরিবর্তনীয়, অবিনাশী পরমাত্মার সহিত আমার নিত্য সম্বন্ধ আছে। এইরূপ জানার পর, অনুভূতি স্বতঃস্ফূর্তভাবে ঘটে। সেই অনুভূতি বাক্যে বর্ণনীয় নহে। সেখানে বুদ্ধিও নিস্তব্ধ হয়। সংযোগ: এ পর্যন্ত চলিয়া আসা দেহ ও দেহস্থ আত্মা বিষয়ক আলোচনা পরবর্তী শ্লোকে সমাপ্ত হইতেছে।