BG 2.62 — সাংখ্য যোগ
BG 2.62📚 Go to Chapter 2
ध्यायतोविषयान्पुंसःसङ्गस्तेषूपजायते|सङ्गात्सञ्जायतेकामःकामात्क्रोधोऽभिजायते||२-६२||
ধ্যায়তো বিষয়ান্পুংসঃ সঙ্গস্তেষূপজায়তে | সঙ্গাৎসঞ্জায়তে কামঃ কামাৎক্রোধোঽভিজায়তে ||২-৬২||
ध्यायतो: thinking | विषयान्पुंसः: objects of the senses | सङ्गस्तेषूपजायते: attachment | सङ्गात्सञ्जायते: from attachment | कामः: desire | कामात्क्रोधोऽभिजायते: from desire
GitaCentral বাংলা
পুরুষ যখন ইন্দ্রিয়ের বিষয় চিন্তা করেন, তখন তাতে আসক্তি জন্মায়; আসক্তি থেকে কামনা জন্মে; কামনা থেকে ক্রোধের উদ্ভব হয়।
🙋 বাংলা Commentary
শব্দার্থ: ध्यायतः (চিন্তা করা) विषयान् (বিষয়ের) पुंसঃ (মানুষের) सङ्गः (আসক্তি) तेषु (সেগুলিতে) उपजायते (উৎপন্ন হয়) सङ्गात् (আসক্তি থেকে) संजायते (জন্মায়) कामः (কামনা/ইচ্ছা) कामात् (কামনা থেকে) क्रोधः (ক্রোধ) अभिजायते (উৎপন্ন হয়)। ব্যাখ্যা: যখন একজন মানুষ ইন্দ্রিয়-বিষয়ের সৌন্দর্য এবং মনোরম বৈশিষ্ট্যগুলি নিয়ে চিন্তা করে, তখন সে সেগুলির প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ে। সে তখন সেগুলিকে অর্জন করার যোগ্য বলে মনে করে এবং সেগুলির জন্য লালায়িত হয়। সেগুলিকে পাওয়ার তীব্র ইচ্ছা তার মধ্যে জন্মায়। সে সেগুলি পাওয়ার জন্য তার যথাসাধ্য চেষ্টা করে। কোনো কারণে তার ইচ্ছা পূর্ণ না হলে, তার মনে ক্রোধের উদয় হয়। কেউ যদি তার পথে বাধা সৃষ্টি করে, তবে সে তাকে ঘৃণা করে, তার সাথে লড়াই করে এবং শত্রুতা পোষণ করে।
English
Swami Gambirananda
Swami Adidevananda
Hindi
Swami Ramsukhdas
Sanskrit
Sri Ramanuja
Sri Madhavacharya
Sri Anandgiri
Sri Jayatirtha
Sri Abhinav Gupta
Sri Madhusudan Saraswati
Sri Sridhara Swami
Sri Dhanpati
Vedantadeshikacharya Venkatanatha
Sri Purushottamji
Sri Neelkanth
Sri Vallabhacharya
Detailed Commentary
**২.৬২-২.৬৩:** বিষয়াসক্ত ব্যক্তির মনে তৎপ্রতি আসক্তি জন্মে। আসক্তি থেকে কামনার সৃষ্টি হয়। কামনা থেকে ক্রোধের উদ্ভব হয়। ক্রোধ থেকে মোহ (বিভ্রান্তি) জন্ম নেয়। মোহ থেকে স্মৃতি লোপ পায়। স্মৃতি লোপ পেলে বুদ্ধির নাশ হয়। বুদ্ধি নষ্ট হলে ব্যক্তির পতন ঘটে। **২.৬২-এর ভাষ্য:** "বিষয়চিন্তায় আসক্ত ব্যক্তির মনে তৎপ্রতি আসক্তি জন্মে" — যেহেতু সে ভগবানে ভক্তিবৎসল নয়, ভগবানের ধ্যান করে না, তাই কেবলমাত্র বিষয়বস্তুর চিন্তায়ই মগ্ন থাকে। এর কারণ হল, জীবাত্মার একদিকে রয়েছে পরমাত্মা, অন্যদিকে রয়েছে জগৎ। সে যখন পরমাত্মার শরণ ত্যাগ করে, তখন জগতেরই শরণাপন্ন হয় এবং কেবল জগৎ নিয়েই চিন্তা করে, কারণ জগৎ ছাড়া ধ্যানের আর কোনো বিষয় তখন অবশিষ্ট থাকে না। এভাবে নিরন্তর বিষয়চিন্তায় মগ্ন থাকার ফলে ব্যক্তির মনে সেই সব ইন্দ্রিয়-বিষয়ের প্রতি আসক্তি, অনুরাগ ও অনুরক্তি জন্মে। আসক্তি জন্মালে ব্যক্তি সেই সব বিষয়ে লিপ্ত হয়। সেই লিপ্ততা মানসিক হোক বা শারীরিক, তা থেকে প্রাপ্ত সুখানুভূতি বিষয়গুলোর প্রতি অনুরক্তি সৃষ্টি করে। অনুরক্তি থেকে ব্যক্তি বারংবার সেই বিষয়ের চিন্তায় মগ্ন হতে শুরু করে। এখন, সে তাতে লিপ্ত হোক বা না হোক, বিষয়ের প্রতি আসক্তি অনিবার্যভাবে জন্মায়—এটাই নিয়তি। "আসক্তি থেকে কামনার সৃষ্টি হয়" — ইন্দ্রিয়-বিষয়ের প্রতি আসক্তি জন্মালে সেই সব বিষয় (ভোগ্যবস্তু) লাভ করার কামনা জন্মায়—এই ইচ্ছা যে, সেই ভোগের সামগ্রীগুলো আমার কাছে আসুক। "কামনা থেকে ক্রোধের উদ্ভব হয়" — কামনার অনুকূল বিষয়বস্তু যখন নিরবচ্ছিন্নভাবে পাওয়া যায়, তখন লোভের সৃষ্টি হয়। আর যদি কামনা পূরণের সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও কেউ প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে, তাহলে তার প্রতি ক্রোধের উদ্ভব হয়। কামনা এমন এক বস্তু যা বাধাপ্রাপ্ত হলে ক্রোধ অনিবার্যভাবে জন্মায়। এমনকি জাতি, আশ্রম, গুণ, দক্ষতা ইত্যাদি ভিত্তিতে নিজের ভালোত্বের অহংকারেও নিজের প্রতি সম্মান ও মর্যাদার এক কামনা নিহিত থাকে। সেই কামনা যখন কেউ বাধা দেয়, তখনও ক্রোধের সৃষ্টি হয়। কামনা একটি রাজসিক প্রবৃত্তি, মোহ একটি তামসিক প্রবৃত্তি এবং ক্রোধ হল রাজস ও তামস—এই দুইয়ের মধ্যবর্তী একটি প্রবৃত্তি। যে কোনো বিষয়ে ক্রোধের উদ্ভব হলে, তার মূলে কোথাও না কোথাও আসক্তি অবশ্যই থাকে। উদাহরণস্বরূপ: কেউ নীতি ও ন্যায়ের বিরুদ্ধাচরণ করলে ক্রোধের উদ্ভব হয়—সেখানে নীতি ও ন্যায়ের প্রতি আসক্তি রয়েছে। কেউ অপমান বা অসম্মান করলে তার প্রতি ক্রোধ হয়—সেখানে সম্মানের প্রতি আসক্তি রয়েছে। কেউ নিন্দা করলে ক্রোধ হয়—সেখানে প্রশংসার প্রতি আসক্তি রয়েছে। কেউ দোষারোপ করলে ক্রোধ হয়—সেখানে নির্দোষ থাকার অহংকারের প্রতি আসক্তি রয়েছে, ইত্যাদি। "ক্রোধ থেকে মোহের সৃষ্টি হয়" — ক্রোধ থেকে মোহের সৃষ্টি হয়, অর্থাৎ বিভ্রান্তি চেপে বসে। বাস্তবে দেখা যায়, এই চারটি থেকে মোহের উদ্ভব হয়: কাম, ক্রোধ, লোভ ও মমতা। যেমন: (১) কামজাত মোহ: বিবেকশক্তি আচ্ছন্ন হয়ে যায় এবং ব্যক্তি কামের বশীভূত হয়ে যা করা উচিত নয়, তা-ই করে ফেলে। (২) ক্রোধজাত মোহ: ব্যক্তি বন্ধু ও পূজনীয় ব্যক্তিদের প্রতিও কঠোর ও অশোভন বাক্য উচ্চারণ করে এবং যা করা উচিত নয়, এমন আচরণ করে। (৩) লোভজাত মোহ: ব্যক্তি সত্য-মিথ্যা, ধর্ম-অধর্ম ইত্যাদির বিবেচনা হারিয়ে ফেলে এবং ছল-চাতুরির মাধ্যমে মানুষকে প্রতারিত করে। (৪) মমতাজাত মোহ: সমদৃষ্টি লোপ পায়; বরং পক্ষপাতিত্বের জন্ম হয়। যদি চারটি—কাম, ক্রোধ, লোভ ও মমতা—সব থেকেই মোহের উদ্ভব হয়, তবে ভগবান এখানে কেবল ক্রোধেরই উল্লেখ করলেন কেন? গভীরভাবে পরীক্ষা করলে দেখা যায়, কাম, লোভ ও মমতায় নিজের সুখ, ভোগ ও স্বার্থের প্রবণতা জাগ্রত থাকে। কিন্তু ক্রোধে অন্যের ক্ষতি সাধনের প্রবণতা জাগ্রত থাকে। তাই ক্রোধজাত মোহ, কাম-লোভ-মমতাজাত মোহের চেয়েও আরও ভয়াবহ। এই দৃষ্টিকোণ থেকে ভগবান এখানে বলছেন যে মোহের উদ্ভব হয় বিশেষভাবে ক্রোধ থেকেই। "মোহ থেকে স্মৃতি লোপ পায়" — বিভ্রান্তি চেপে বসলে স্মৃতি বিনষ্ট হয়। অর্থাৎ, শাস্ত্র ও সুচিন্তা থেকে যে সংকল্প গৃহীত হয়েছিল—যে এমন কর্ম করতে হবে, এমন সাধন করতে হবে এবং নিজের মুক্তি সাধন করতে হবে—সেই স্মৃতি লোপ পায়; তা আর স্মরণ থাকে না। "স্মৃতি লোপ পেলে বুদ্ধির নাশ হয়" — স্মৃতি লোপ পেলে বুদ্ধিতে যে বিবেক প্রকাশ পায়, তা বিলুপ্ত হয়। অর্থাৎ, ব্যক্তি নতুন করে চিন্তা করার শক্তি হারিয়ে ফেলে। "বুদ্ধি নষ্ট হলে ব্যক্তির পতন ঘটে" — বিবেক বিলুপ্ত হলে ব্যক্তি তার স্বরূপ থেকে বিচ্যুত হয়। তাই এই পতন এড়াতে সকল সাধকের পক্ষে ভগবানের শরণাপন্ন হওয়া একান্তই অপরিহার্য। এখানে বর্ণিত ধারাবাহিকতা—বিষয়চিন্তা থেকে আসক্তি, আসক্তি থেকে কামনা, কামনা থেকে ক্রোধ, ক্রোধ থেকে মোহ, মোহ থেকে স্মৃতিলোপ, স্মৃতিলোপ থেকে বুদ্ধিনাশ এবং বুদ্ধিনাশ থেকে পতন—বিশদে বিশ্লেষণ করতে সময় লাগে। কিন্তু এই সমস্ত প্রবৃত্তির উদ্ভব এবং তার ফলে ব্যক্তির পতন ঘটতে কোনো সময় নষ্ট হয় না। বৈদ্যুতিক প্রবাহের মতো এই সমস্ত প্রবৃত্তি মুহূর্তের মধ্যে উদ্ভূত হয় এবং ব্যক্তির পতন ঘটায়। **সংযোগ:** এখন, পরবর্তী শ্লোকে ভগবান চতুর্থ প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছেন: স্থিতপ্রজ্ঞ ব্যক্তি কীভাবে আচরণ করেন?