১.৩২: হে কৃষ্ণ! আমি জয় চাই না, রাজ্যও চাই না, এমনকি সুখভোগও চাই না। হে গোবিন্দ! আমাদের জন্য রাজ্য কি কাজে লাগবে? ভোগবিলাসই বা কি কাজে আসবে? অথবা জীবনই বা কি মূল্য রাখে?
**ভাষ্য:** **ব্যাখ্যা**— "হে কৃষ্ণ, আমি জয় চাই না, রাজ্যও চাই না, সুখভোগও চাই না"— ধরা যাক, এই যুদ্ধে আমরা জয়লাভ করলাম; জয়লাভ করলে সমগ্র পৃথিবীর উপর আমাদের আধিপত্য ও রাজত্ব প্রতিষ্ঠিত হবে। পৃথিবীর রাজ্য লাভ হলে আমাদের নানা প্রকার সুখভোগের সামগ্রী মিলবে। তবুও আমি এগুলোর কোনোটিই কামনা করি না— অর্থাৎ, আমার মনে জয়, রাজ্য বা সুখভোগের জন্য কোন লালসা নেই।
"হে গোবিন্দ, আমাদের জন্য রাজ্য কি কাজে লাগবে, ভোগবিলাসই বা কি কাজে আসবে, এমনকি জীবনই বা কি মূল্য রাখে?"— যখন আমাদের মনে (জয়, রাজ্য বা সুখভোগের জন্য) কোন ইচ্ছাই অবশিষ্ট নেই, তখন আমরা যত বড় রাজ্যই লাভ করি না কেন, তা আমাদের কি উপকারে আসবে? আমরা যত সুন্দর সুখভোগের সামগ্রীই পাই না কেন, সেগুলো আমাদের কি কাজে লাগবে? অথবা, আমাদের আত্মীয়-স্বজনদের হত্যা করে আমরা বহু বছর ধরে বেঁচে থেকে রাজ্যের সুখভোগ করব— তা আমাদের কি কল্যাণ বয়ে আনবে? সারকথা হলো— জয়, রাজ্য ও ভোগবিলাস তখনই সুখ দিতে পারে, যখন সেগুলোর প্রতি অন্তরের আকাঙ্ক্ষা থাকে, স্নেহ-মমতা থাকে, সেগুলোর গুরুত্ববোধ থাকে। কিন্তু আমাদের মধ্যে তো এমন কোন ইচ্ছাই নেই। সুতরাং সেগুলো আমাদের কি সুখ দিতে পারে? এই আত্মীয়দের হত্যা করে আমাদের বাঁচারই ইচ্ছা নেই; কারণ আমাদের আত্মীয়-স্বজনেরা যখন নিহত হবেন, তখন এই রাজ্য ও এই ভোগবিলাস কার জন্য কাজে লাগবে? রাজ্য, ভোগবিলাস প্রভৃতি তো পরিবারের জন্যই, কিন্তু যখন তারাই মারা যাবেন, তখন কে এসব ভোগ করবে? ভোগ তো দূরের কথা, বরং আমাদের আরও বেশি উদ্বেগ ও শোক পোহাতে হবে!
**সন্দর্ভ**— পরের শ্লোকগুলিতে অর্জুন ব্যাখ্যা করছেন কেন তিনি জয়প্রভৃতি কামনা করেন না।
★🔗