**১.৪৪।** হে জনাৰ্দন! বংশধর্ম নষ্ট হলে, সেইসব মানুষ দীর্ঘকাল নরকে বাস করে – এমনই আমরা শ্রুতি থেকে জেনেছি।
**ভাষ্য:** 'যাদের বংশধর্ম নষ্ট হয়েছে... আমরা শুনেছি' – প্রভু মানুষকে বিবেকবুদ্ধি দিয়েছেন এবং নতুন কর্ম করার অধিকার দিয়েছেন। তাই সে কর্ম করতে বা না করতে, ভালো বা নিকৃষ্ট কাজ করতে স্বাধীন। সুতরাং, তাকে সর্বদা সতর্ক বিবেকবুদ্ধি ও বিচার-বিবেচনা সহকারে নিজের কর্তব্য পালন করা উচিত। কিন্তু ইন্দ্রিয়সুখ প্রভৃতির মোহে পড়ে মানুষ তার বিবেকবুদ্ধিকে উপেক্ষা করে এবং রাগ-দ্বেষের দাসে পরিণত হয়। ফলে, তার আচরণ শাস্ত্রবিধি ও বংশপরম্পরাগত রীতিনীতির বিরুদ্ধে যেতে শুরু করে। এর ফলস্বরূপ, ইহলোকে সে নিন্দা, অসম্মান ও উপহাসের সম্মুখীন হয় এবং পরলোকে সে নিকৃষ্ট অবস্থা প্রাপ্ত হয় ও নরক লাভ করে। নিজের পাপের কারণে তাকে দীর্ঘকাল নরকের যন্ত্রণা ভোগ করতে হয়। আমাদের ঐতিহ্যে মহান পূর্বপুরুষ ও গুরুদের কাছ থেকে আমরা এমনই শুনেছি।
'মানুষ' শব্দটি বংশধর্ম নষ্টকারী এবং তাদের পরিবারের সমস্ত পুরুষকে অন্তর্ভুক্ত করে। অর্থাৎ, যারা পূর্বে গেছেন (পিতৃপুরুষ), তারা নিজেরা, এবং যারা ভবিষ্যতে আসবেন (বংশধর) – সকলেই এর অন্তর্গত।
**সান্নিধ্য:** যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট বিপর্যয়ের এই ধারাবাহিক বর্ণনা অর্জুনের নিজের উপর কী প্রভাব ফেলেছিল? এটি পরবর্তী শ্লোকে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
★🔗