BG 3.14 — কর্ম যোগ
BG 3.14ⓘ📚 Go to Chapter 3
अन्नाद्भवन्तिभूतानिपर्जन्यादन्नसम्भवः|यज्ञाद्भवतिपर्जन्योयज्ञःकर्मसमुद्भवः||३-१४||
অন্নাদ্ভবন্তি ভূতানি পর্জন্যাদন্নসম্ভবঃ | যজ্ঞাদ্ভবতি পর্জন্যো যজ্ঞঃ কর্মসমুদ্ভবঃ ||৩-১৪||
अन्नाद्भवन्ति: from food | भूतानि: beings | पर्जन्यादन्नसम्भवः: from rain | यज्ञाद्भवति: from sacrifice | पर्जन्यो: rain | यज्ञः: sacrifice | कर्मसमुद्भवः: born of action
GitaCentral বাংলা▲
অন্ন থেকে প্রাণীরা উৎপন্ন হয়; বৃষ্টি থেকে অন্নের উৎপত্তি হয়; যজ্ঞ থেকে বৃষ্টি হয় এবং যজ্ঞ কর্ম থেকে জন্মলাভ করে।
★
🙋 বাংলা Commentary▲
শব্দার্থ: অন্নাৎ - অন্ন থেকে, ভবন্তি - উৎপন্ন হয়, ভূতানি - প্রাণীসমূহ, পর্জন্যাৎ - বৃষ্টি থেকে, অন্নসম্ভবঃ - অন্নের উৎপত্তি, যজ্ঞাৎ - যজ্ঞ থেকে, ভবতি - উৎপন্ন হয়, পর্জন্যঃ - বৃষ্টি, যজ্ঞঃ - যজ্ঞ, কর্মসমুদ্ভবঃ - কর্ম থেকে জাত। ব্যাখ্যা: এখানে 'যজ্ঞ' বলতে 'অপূর্ব' বা সেই সূক্ষ্ম শক্তিকে বোঝায়, যা যজ্ঞ অনুষ্ঠানের সময় এবং তার ফল প্রকাশের মধ্যবর্তী সময়ে অদৃশ্য রূপে অবস্থান করে।
★
English
Swami Gambirananda
Swami Adidevananda
Hindi
Swami Ramsukhdas
Sanskrit
Sri Ramanuja
Sri Madhavacharya
Sri Anandgiri
Sri Jayatirtha
Sri Abhinav Gupta
Sri Madhusudan Saraswati
Sri Sridhara Swami
Sri Dhanpati
Vedantadeshikacharya Venkatanatha
Sri Purushottamji
Sri Neelkanth
Sri Vallabhacharya
Detailed Commentary▲
**৩.১৪-৩.১৫:** অন্নাদ্ভবন্তি ভূতানি – প্রাণধারণের জন্য যা ভক্ষণ করা হয়, তাকে ‘অন্ন’ বলে। এখানে ‘অন্ন’ বলতে কোনও প্রাণীর উপযুক্ত যে কোনও খাদ্যই বোঝানো হয়েছে, যা গ্রহণ করলে তার দেহের উৎপত্তি, স্থিতি ও পুষ্টি ঘটে। যেমন, কেঁচো মাটি খেয়ে বাঁচে; অতএব মাটিই তার ‘অন্ন’। চার প্রকার ভূত – জরায়ুজ (মানুষ, পশু ইত্যাদি), উদ্ভিজ্জ (গাছ ইত্যাদি), অণ্ডজ (পাখি, সাপ, পিপীলিকা ইত্যাদি) ও স্বেদজ (উকুন ইত্যাদি) – সকলেই অন্ন থেকে উৎপন্ন হয় এবং উৎপন্ন হয়ে অন্ন দ্বারাই জীবিত থাকে। পরজন্যাদন্নসম্ভবঃ – সকল ভোজ্য দ্রব্য জল থেকে উৎপন্ন হয়। ঘাস, শস্য ইত্যাদি নিশ্চয়ই জল থেকে হয়; এমনকি মাটির উৎপত্তিও জলের দ্বারা সংঘটিত। দেহধারণের উপকরণ – অন্ন, জল, বস্ত্র, বাসস্থান ইত্যাদি – প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জলের সঙ্গে সম্পর্কিত, আর জলের ভিত্তি হল বৃষ্টি। যজ্ঞাদ্ভবতি পরজন্যঃ – ‘যজ্ঞ’ শব্দটি প্রধানত হবিঃপ্রদানের ক্রিয়াকে নির্দেশ করে। কিন্তু গীতার সিদ্ধান্ত ও কর্মযোগের বর্তমান প্রসঙ্গ অনুযায়ী, এখানে ‘যজ্ঞ’ শব্দটি সমস্ত কর্তব্যনিষ্ঠ কর্মকে নির্দেশ করছে। যজ্ঞের প্রধান বৈশিষ্ট্য হল ত্যাগ। হবিঃ প্রদানে শস্য, ঘৃত ইত্যাদির ত্যাগ; দান দিতে সম্পদের ত্যাগ; তপস্যা করতে নিজের সুখের ত্যাগ; কর্তব্যনিষ্ঠ কর্ম করতে নিজের স্বার্থ, আরাম ইত্যাদির ত্যাগ। তাই ‘যজ্ঞ’ শব্দটি যজ্ঞ, দান, তপস্যা ইত্যাদি সমস্ত শাস্ত্রবিহিত কর্মকেই নির্দেশ করে। বৃহদারণ্যক উপনিষদে একটি কাহিনী আছে। প্রজাপতি ব্রহ্মা দেবতা, মানুষ ও অসুরদের সৃষ্টি করে তাদের ‘দ’ এই অক্ষরটি শিক্ষা দিলেন। ভোগের প্রাচুর্যের কারণে দেবতারা ‘দ’ কে ‘দম্যত’ (সংযত হও) বলে বুঝলেন। সঞ্চয়ের প্রবল প্রবৃত্তির কারণে মানুষ ‘দ’ কে ‘দত্ত’ (দান কর) বলে বুঝলো। হিংসার (পরের কষ্ট দেওয়ার) প্রবল ঝোঁকের কারণে অসুররা ‘দ’ কে ‘দয়ধ্বম’ (দয়াশীল হও) বলে বুঝলো। এভাবে দেবতা, মানুষ ও অসুর – এই তিনকেই পরহিতের জন্য কর্ম করার শিক্ষাই দেওয়া হল। আজও বর্ষাকালে মেঘেরা ‘দ দ’ গর্জন করে ব্রহ্মার সেই কর্তব্যনিষ্ঠ কর্মরূপী উপদেশকেই (সংযত হও, দান কর, দয়াশীল হও) স্মরণ করিয়ে দেয়। কর্তব্য পালন করলে বৃষ্টি হয় কীভাবে? নিজের আচরণের অপরের উপর প্রাকৃতিক প্রভাব, কেবলমাত্র বাক্যের প্রভাবের চেয়ে বেশি – ‘যৎ যৎ আচরতি শ্রেষ্ঠঃ তৎ তদেবেতরো জনঃ’ (গীতা ৩.২১)। মানুষ যদি নিজ নিজ কর্তব্য পালন করে, তাহলে দেবতাদেরও তার প্রভাব পড়বে এবং তারাও বৃষ্টি ঘটানোর নিজ নিজ কর্তব্য পালন করবেন। (গীতা ৩.১১)। এ বিষয়ে একটি গল্প আছে। চার কৃষক বালক দেখল আষাঢ় মাস এসে গেল কিন্তু বৃষ্টি নেই। তারা ভাবল, "লাঙল দেওয়ার সময় হয়েছে। বৃষ্টি না হোক, অন্তত আমাদের কর্তব্য তো সময়মতো সম্পন্ন করি।" এই ভেবে তারা মাঠে গিয়ে লাঙল দেওয়া শুরু করল। ময়ূরেরা তাদের লাঙল দিতে দেখে ভাবল, "কি ব্যাপার? বৃষ্টি তো হয়নি, ওরা লাঙল দিচ্ছে কেন?" যখন জানতে পারল যে বালকরা কর্তব্য পালন করছে, তখন তারা ভাবল, "কর্তব্য পালনে আমরা পিছিয়ে থাকব কেন?" এই ভেবে ময়ূরেরা ডাকতে শুরু করল। ময়ূরের ডাক শুনে মেঘেরা ভাবল, "মেঘের গর্জন না শুনেই ময়ূরেরা আজ ডাকছে কীভাবে?" সমস্ত ব্যাপার জানতে পেরে তারা ভাবল, "আমরা কর্তব্য থেকে বিচ্যুত হব কেন?" এবং তারাও গর্জন করতে শুরু করল। মেঘের গর্জন শুনে ইন্দ্র ভাবলেন, "কি হচ্ছে?" যখন জানতে পারলেন যে তারা কর্তব্য পালন করছে, তখন তিনি ভাবলেন, "কর্তব্য পালনে আমি পিছিয়ে থাকব কেন?" এই ভেবে ইন্দ্র মেঘদের বৃষ্টি দিতে আদেশ দিলেন। যজ্ঞঃ কর্মসমুদ্ভবঃ – নিষ্কামভাবে সম্পাদিত সমস্ত লৌকিক ও শাস্ত্রীয় বিহিত কর্মই ‘যজ্ঞ’ নামে অভিহিত। ব্রহ্মচারীর জন্য অগ্নিহোত্র করা যজ্ঞ। তেমনই নারীদের জন্য রান্না করা যজ্ঞ। আয়ুর্বেদ চিকিৎসক, যদি তিনি শুধুমাত্র লোকহিতের জন্য চিকিৎসাসেবা করেন, সেটাই তার যজ্ঞ। একইভাবে, ছাত্র তার পড়াশোনাকে এবং ব্যবসায়ী তার ব্যবসাকে (নিষ্কামভাবে শুধুমাত্র পরহিতের জন্য সম্পাদিত হলে) ‘যজ্ঞ’ বলে গণ্য করতে পারেন। এভাবে নিষ্কামভাবে, বর্ণ, আশ্রম, স্থান ও কালের সীমা রক্ষা করে সম্পাদিত সমস্ত শাস্ত্রবিহিত কর্তব্যনিষ্ঠ কর্মই যজ্ঞস্বরূপ হয়। যে কোনও প্রকার যজ্ঞই কর্ম থেকে জন্মায়, এটা অবশ্যম্ভাবী। বিষ যেমন অপরিজিতা, কুচিলা ইত্যাদি চিকিৎসকদের দ্বারা শোধন করে ঔষধরূপে প্রয়োগ করলে অমৃততুল্য হয়ে যায় এবং মহা রোগ নিরাময়ে সহায়ক হয়, তেমনই কর্মে কামনা, সম্পত্তিলিপ্সা, আসক্তি, পক্ষপাত, অসমতা, স্বার্থ, অহংকার ইত্যাদি সব বিষস্বরূপ। কর্মের এই বিষাক্ত দিক দূর হয়ে গেলে সেই কর্মগুলো অমৃতস্বরূপ হয়ে জন্ম-মৃত্যুর মহা রোগ দূর করতে সহায়ক হয়। এইরূপ অমৃতস্বরূপ কর্মই কেবল ‘যজ্ঞ’ নামে অভিহিত। কর্ম ব্রহ্মোদ্ভবং বিদ্ধি – কর্তব্যনিষ্ঠ কর্ম সম্পাদনের পদ্ধতি বেদে বিহিত আছে (গীতা ৪.৩২)। কর্তব্যনিষ্ঠ কর্ম সম্পাদনের পদ্ধতিজ্ঞান মানুষের কাছে বেদ থেকেই আসে বলে কর্ম বেদ থেকে উদ্ভূত বলা হয়েছে। এখানে ‘বেদ’ শব্দটি ঋক্, যজুঃ, সাম ও অথর্ব এই চার বেদের সঙ্গে সঙ্গে স্মৃতি, পুরাণ, ইতিহাস (রামায়ণ, মহাভারত) এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের আচার্যগণের অনুভূতিসিদ্ধ বাক্য – বেদানুগ সমস্ত শাস্ত্রকেই বোঝাতে হবে। ব্রহ্মাক্ষরসমুদ্ভবম্ – এখানে ‘ব্রহ্ম’ শব্দটি বেদকে নির্দেশ করছে। বেদ সচ্চিদানন্দ পরমেশ্বর থেকেই প্রকাশিত (গীতা ১৭.২৩)। অতএব পরমেশ্বরই সমস্ত কিছুর উৎস। পরমেশ্বর থেকে বেদের প্রকাশ। বেদ কর্তব্য সম্পাদনের পদ্ধতি বিধান করে। মানুষ সেই বিধান অনুসারে কর্তব্য পালন করে। কর্তব্যনিষ্ঠ কর্ম সম্পাদন থেকে যজ্ঞ হয়; যজ্ঞ থেকে বৃষ্টি হয়; বৃষ্টি থেকে অন্ন উৎপন্ন হয়; অন্ন থেকে প্রাণীর উদ্ভব হয়; আর সেই প্রাণীদের মধ্যে মানুষ কর্তব্যনিষ্ঠ কর্ম সম্পাদনের মাধ্যমে যজ্ঞ করে। এভাবে এই সৃষ্টিচক্র চলতে থাকে। তস্মাৎ সর্বগতং ব্রহ্ম নিত্যং যজ্ঞে প্রতিষ্ঠিতম্ – এখানে ‘ব্রহ্ম’ শব্দটি অক্ষর (সগুণ-নির্মল পরমেশ্বর) কে নির্দেশ করছে। তাই তিনি সর্বব্যাপী পরমেশ্বর, বেদ নন। সর্বব্যাপী হয়েও পরমেশ্বর ‘যজ্ঞে’ (কর্তব্যনিষ্ঠ কর্মে) সর্বদা বিশেষভাবে প্রতিষ্ঠিত। অর্থাৎ, যেখানেই নিষ্কামভাবে কর্তব্যনিষ্ঠ কর্ম সম্পাদিত হয়, সেখানেই পরমেশ্বর অবস্থান করেন। তাই ঈশ্বরপ্রাপ্তি কামনা করা মানুষের পক্ষে নিজ নিজ কর্তব্যনিষ্ঠ কর্মের মাধ্যমেই তাঁকে সহজে লাভ করা সম্ভব – ‘স্বকর্মণা তমভ্যর্চ্য সিদ্ধিং বিন্দতি মানবঃ’ (গীতা ১৮.৪৬)। **সন্দেহ:** পরমেশ্বর সর্বব্যাপী হলে, তাঁকে কেবল যজ্ঞেই নিত্যপ্রতিষ্ঠিত বলা হল কেন? অন্যত্র কি তিনি নিত্যপ্রতিষ্ঠিত নন? **সমাধান:** পরমেশ্বর নিশ্চয়ই সমভাবে ও নিত্যরূপেই সর্বত্র বিরাজমান। তিনি অনিত্য বা একস্থানীয় নন। তাই এখানে তাঁকে ‘সর্বগত’ বলা হয়েছে। যজ্ঞে নিত্যপ্রতিষ্ঠিত বলা অর্থ হল, যজ্ঞই তাঁর প্রাপ্তিস্থান। যেমন ভূগর্ভে জল সর্বত্র থাকলেও কূপ ইত্যাদি থেকেই পাওয়া যায়, সর্বত্র থেকে নয়। নলের সর্বত্র জল থাকলেও যেখানে কল বা ছিদ্র আছে, সেখান থেকেই পাওয়া যায়। তেমনই সর্বব্যাপী হয়েও পরমেশ্বর কেবল যজ্ঞের দ্বারাই প্রাপ্ত হন। নিজের জন্য কর্ম করা ও নিজেকে জড় পদার্থ (দেহ ইত্যাদি) বলে অভিমান করা সর্বব্যাপী পরমেশ্বরকে প্রাপ্তির পথে বাধা সৃষ্টি করে। নিষ্কামভাবে শুধুমাত্র পরহিতের জন্য নিজ কর্তব্য সম্পাদন করলে এই বাধা দূর হয় এবং নিত্যপ্রাপ্ত পরমেশ্বর স্বতঃস্ফূর্তভাবে অনুভূত হন। কর্তব্য পরিত্যাগ করতে ইচ্ছুক অর্জুনকে কর্তব্য সম্পাদনের উপর বিশেষ জোর দিতে গিয়ে প্রভু বহু যুক্তি দিচ্ছেন, এটাই তার কারণ। **সংশ্লেষ:** সৃষ্টিচক্র অনুযায়ী, সেই অনুসারে কর্ম করার অর্থাৎ কর্তব্য পালনের দায়িত্ব কেবল মানুষের উপরই ন্যস্ত। তাই প্রভু পরবর্তী শ্লোকে কর্তব্য পালন না করা মানুষকে ভর্ৎসনা করছেন।
★
↑