**৩.১৮** সেই মহাত্মার (কর্মযোগে সিদ্ধ) এই জগতে কর্ম করিলেও কোনও প্রয়োজন নাই, কর্ম না করিলেও কোনও প্রয়োজন নাই; এবং সমস্ত প্রাণীর সহিত তাহার আত্মসুখের লেশমাত্র সম্বন্ধও নাই।
**ভাষ্য:** 'তাঁহার কর্মে প্রয়োজন নাই' – প্রত্যেক মানুষেরই কোনও না কোনও কর্মে প্রবৃত্তি থাকে। যতদিন এই কর্মপ্রবৃত্তি কোনও পার্থিব বস্তু লাভের জন্য থাকে, ততদিন তাহার নিজের জন্য 'করিবার' কাজ অনিবার্যরূপেই থাকে। নিজের জন্য কিছু লাভ করিবার ইচ্ছাতেই মানুষ বদ্ধ হয়। এই ইচ্ছা নিরোধ করিতে হইলে কর্তব্যজনিত কর্মের অনুষ্ঠান আবশ্যক। কর্ম দুই প্রকারে অনুষ্ঠিত হয়: কামনাপূরণের জন্য এবং কামনানিরোধের জন্য। সাধারণ লোক কর্ম করে কামনাপূরণের জন্য, কিন্তু কর্মযোগী কর্ম করে কামনানিরোধের জন্য। অতএব কর্মযোগে সিদ্ধ সেই মহাত্মাতে যখন একটিও কামনা অবশিষ্ট থাকে না, তখন তাঁহার কর্তব্যের সহিত লেশমাত্র সম্বন্ধ থাকে না। তাঁহার দ্বারা কর্তব্যজনিত কর্ম স্বতঃস্ফূর্তভাবে, নিষ্কামভাবে, সমগ্র সৃষ্টির কল্যাণের জন্য সংঘটিত হয়।
কর্মযোগে সিদ্ধ মহাত্মার নিজের সহিত কর্মের (ব্যক্তিগত সুখ বা আরামের জন্য) কোনও সম্বন্ধই অবশিষ্ট থাকে না। এই মহাত্মা উপলব্ধি করেন যে বিষয়, দেহ, ইন্দ্রিয়, মন প্রভৃতি কেবলমাত্র জগতেরই এবং জগৎ হইতেই প্রাপ্ত; ইহা ব্যক্তিগত নয়। অতএব ইহাদের দ্বারা কর্ম করিতে হইবে কেবল জগতের জন্য, নিজের জন্য নয়। কারণ, জগতের সাহায্য ব্যতীত কোনও কর্মই সম্পাদিত হইতে পারে না। তদুপরি, কর্মের জন্য প্রাপ্ত উপকরণের সম্বন্ধও ব্যক্তিগত নিজের সহিত নয়, সমষ্টিগত জগতের সহিত। অতএব কিছুই নিজের নয়। সমষ্টি ব্যক্তির জন্য থাকিতে পারে না। মানুষ এই ভুলই করে: সে সমষ্টিকে নিজের জন্য ব্যবহার করিতে চায়; ইহার জন্যই সে অশান্তি ভোগ করে। যদি সে দেহ, ইন্দ্রিয়, মন, বুদ্ধি, বিষয় প্রভৃতিকে সমষ্টির জন্য ব্যবহার করে, তবে মহাশান্তি লাভ করিতে পারে। কর্মযোগে সিদ্ধ মহাত্মার বিশেষত্ব এই যে, দেহ, ইন্দ্রিয়, মন, বুদ্ধি, বিষয় প্রভৃতি যাহাকে 'তাঁহার' বলা হয়, তাহার ব্যবহার একান্তভাবে জগতের জন্য। অতএব দেহাদির ক্রিয়াকলাপে তাঁহার ব্যক্তিগত কোনও উদ্দেশ্য নাই। উদ্দেশ্য না থাকিলেও স্বতঃস্ফূর্তভাবে সেই মহাত্মার দ্বারা লোকহিতের জন্য আদর্শ ও উৎকৃষ্ট কর্মসমূহ সংঘটিত হয়। নীতি এই যে, যাহার কর্ম করিবার উদ্দেশ্য থাকে, তাহার দ্বারা আদর্শ কর্মের উৎপত্তি হয় না।
'এখানে অকর্মেও তাঁহার কোনও প্রয়োজন নাই' – যে ব্যক্তি দেহ, ইন্দ্রিয়, মন, বুদ্ধি প্রভৃতিকে নিজের বলিয়া মনে করে এবং আলস্য, প্রমাদ প্রভৃতির প্রতি তাহার প্রবৃত্তি থাকে, সে কর্ম করিতে ইচ্ছা করে না; কারণ তাহার উদ্দেশ্য হয় প্রমাদ, আলস্য, আরাম প্রভৃতি হইতে উদ্ভূত তামসিক সুখ (গীতা ১৮.৩৯)। কিন্তু যে মহাত্মা সাত্ত্বিক সুখকেও অতিক্রম করিয়াছেন, তিনি কি করিয়া তামসিক সুখের প্রতি প্রবৃত্ত হইবেন? যেহেতু দেহাদির সহিত তাঁহার লেশমাত্র সম্বন্ধ নাই, সেহেতু আলস্য-আরাম প্রভৃতির প্রতি প্রবৃত্তি থাকার প্রশ্নই উঠে না।
**একটি প্রয়োজনীয় বিষয়:** প্রায়শই আধ্যাত্মিক সাধকগণ কেবল অকর্মকেই গুরুত্ব দিয়া থাকেন। তাঁহারা কর্ম হইতে নিবৃত্ত হইয়া সমাধিস্থ হইতে ইচ্ছা করেন, যেন কোনও চিন্তাই না থাকে। ইহা নিশ্চয়ই উৎকৃষ্ট ও হিতকর, কিন্তু ইহা চরম সত্য নয়। যদিও নিবৃত্তি (অকরণ) প্রবৃত্তি (করণ) অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ, তথাপি ইহা সত্য নয়। প্রবৃত্তি (করণ) ও নিবৃত্তি (অকরণ) – উভয়ই প্রকৃতির (প্রকৃতির) অন্তর্গত। নির্বিকল্প সমাধি পর্যন্ত সমস্তই প্রকৃতির এলাকা, কারণ নির্বিকল্প সমাধি হইতেও ব্যুত্থান (প্রকটন) ঘটে। কর্ম কেবল প্রকৃতিতেই ঘটে – 'প্রকার্ষেণ করণং (ভাবে ল্যুৎ) ইতি প্রকৃতিঃ' – এবং কর্ম ব্যতীত ব্যুত্থান কেবলই অসম্ভব। অতএব হাঁটা, কথা বলা, দেখা, শোনা প্রভৃতির ন্যায় নিদ্রা, বসা, দাঁড়ানো, নীরব থাকা, অচেতন হওয়া এবং সমাধিস্থ হওয়াও কর্ম। সত্য সত্তায় (চৈতন্য স্বরূপে) প্রবৃত্তিও নাই, নিবৃত্তিও নাই। উহা প্রবৃত্তি ও নিবৃত্তি উভয়েরই অনাসক্ত প্রকাশক।
দেহের সহিত অভিন্নতা বোধ করিলেই করণ ও অকরণ এই দ্বৈত বিভাগের উৎপত্তি হয়। বাস্তবে করণ ও অকরণ একই শ্রেণীর। দেহের সহিত সম্বন্ধ রক্ষা করিয়াও অকরণ, বাস্তবেও করণই। যেমন 'গচ্ছতি' (যায়) একটি ক্রিয়া, তেমনই 'তিষ্ঠতি' (দাঁড়ায়)ও একটি ক্রিয়া। স্থূল দৃষ্টিতে যদিও 'গচ্ছতি'তে ক্রিয়া স্পষ্ট দেখা যায় এবং 'তিষ্ঠতি'তে দেখা যায় না, সূক্ষ্ম দৃষ্টিতে দেখিলে, যে দেহে 'যাওয়া'র ক্রিয়া ছিল, এখন সেই দেহেই 'দাঁড়ানো'র ক্রিয়া রহিয়াছে। অনুরূপভাবে, কোনও কাজ 'করায়' এবং 'না করায়' উভয়েতেই ক্রিয়া আছে। অতএব যেমন স্থূলরূপে ক্রিয়ার প্রকাশ (প্রবৃত্তি) কেবল প্রকৃতিতেই, তেমনই স্থূল দৃষ্টিতে ক্রিয়ার অপ্রকাশ (নিবৃত্তি)ও কেবল প্রকৃতিতেই। যে মহাত্মার প্রকৃতি ও প্রকৃতিজাত ফল হইতে কোনও প্রয়োজন – বৈষয়িক বা আধ্যাত্মিক, ইহলৌকিক বা পারলৌকিক – অবশিষ্ট থাকে না, তাঁহার করণে বা অকরণে আত্মসুখের সম্বন্ধ নাই।
করণ ও অকরণের প্রশ্ন কেবল তখনই উঠে যখন জড়তার সহিত সম্বন্ধ থাকে; কারণ জড়তার সহিত সম্বন্ধ ব্যতীত কোনও ক্রিয়াই ঘটে না। এই মহাত্মার জড়তার সহিত সম্পূর্ণ বিচ্ছেদ ঘটিয়াছে এবং তিনি স্বতঃস্ফূর্ত, নিবৃত্ত্যতীত স্বরূপে, প্রবৃত্তি ও নিবৃত্তি উভয়ের পরেই, স্বাভাবিক অবস্থান উপলব্ধি করেন। অতএব সাধকের কেবল জড়তার সহিত সম্বন্ধ (দেহে 'আমি' ও 'আমার' ভাব) ছেদ করাই প্রয়োজন। স্বরূপ সদা ঠিক যেমন আছে তেমনই বিদ্যমান।
'এবং সমস্ত প্রাণীতে কোনও প্রয়োজন সাধনের জন্য তাঁহার নির্ভরতা নাই' – যেহেতু দেহ ও জগতের সহিত আত্মসুখের লেশমাত্র সম্বন্ধ অবশিষ্ট থাকে না, সেই মহাত্মার সমস্ত কর্ম স্বতঃস্ফূর্তভাবে পরহিতের জন্য সংঘটিত হয়। যেমন দেহের সমস্ত অঙ্গ স্বতঃস্ফূর্তভাবে দেহের কল্যাণে নিযুক্ত থাকে, তেমনই সেই মহাত্মার 'তাঁহার' নামক দেহ (যাহা জগতের একটি ক্ষুদ্র অংশ) স্বতঃস্ফূর্তভাবে জগতের কল্যাণে নিযুক্ত থাকে। তাঁহার ভাবনা ও সমস্ত চেষ্টা একান্তভাবে জগতের কল্যাণের জন্য। যেমন নিজের হাত দ্বারা নিজের মুখ ধৌত করিলে নিজের মধ্যে আত্মসুখ, প্রতিদান বা অহংকারের ভাবের উদয় হয় না, তেমনই 'তাঁহার' নামক দেহ দ্বারা জগতের কল্যাণ সংঘটিত হইলে সেই মহাত্মার মধ্যে আত্মসুখ, প্রতিদান বা অহংকারের লেশমাত্র ভাবের উদয় হয় না।
পূর্বশ্লোকে প্রভু সিদ্ধ মহাত্মার সম্বন্ধে বলিয়াছিলেন যে তাঁহার কোনও কর্তব্য নাই – 'তাঁহার জন্য কোনও বিহিত কর্ম নাই।' ইহার কারণ ব্যক্ত করিতে গিয়া এই শ্লোকে প্রভু সেই মহাত্মার সম্বন্ধে তিনটি কথা বলিতেছেন: (১) তাঁহার কর্ম করিবার কোনও প্রয়োজন নাই, (২) কর্ম না করিবারও কোনও প্রয়োজন নাই, এবং (৩) কোনও প্রাণী বা বস্তুর সহিত তাঁহার আত্মসুখের লেশমাত্র সম্বন্ধ নাই, অর্থাৎ কিছু লাভ করিবারও কোনও প্রয়োজন নাই।
সত্য বলিতে কি, স্বরূপে করণ বা অকরণের কোনও প্রয়োজন নাই এবং কোনও ব্যক্তি বা বস্তুর সহিত সম্বন্ধ নাই। কারণ নির্মল স্বরূপ দ্বারা কোনও কর্ম সম্পাদিত হয় না। যে কোনও কর্ম সংঘটিত হয়, তাহা কেবল প্রকৃতি ও প্রকৃতিজাত বস্তুর সহিত সম্বন্ধের দ্বারাই সংঘটিত হয়। অতএব নিজের জন্য কিছু করিবার ব্যবস্থা আদৌ নাই।
যতদিন মানুষের করিবার আসক্তি, লাভের ইচ্ছা, বাঁচিবার আশা ও মৃত্যুর ভয় থাকে, ততদিন তাঁহার উপরে কর্তব্যের দায়িত্ব থাকে। কিন্তু যাঁহার কোনও কর্ম করিবার বা না করিবার আসক্তি নাই, যাঁহার জগতের কোনও বস্তু প্রভৃতি লাভ করিবার ইচ্ছা নাই, যাঁহার জীবিত থাকিবার আশা নাই এবং যাঁহার মৃত্যুর ভয় নাই – তিনি কর্তব্য পালনে বাধ্য নহেন; বরং তাঁহার দ্বারা কর্তব্যজনিত কর্ম স্বতঃস্ফূর্তভাবে সংঘটিত হয়। যেখানে কর্তব্য না পালনের সম্ভাবনা থাকে, কেবল সেখানেই কর্তব্য পালনের প্রেরণা বিদ্যমান থাকে।
**একটি বিশেষ বিষয়:** গীতায় প্রভুর রীতি এইরূপ হইয়াছে যে, বিভিন্ন আধ্যাত্মিক পথে পরমের দিকে অগ্রসর সাধকগণের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য অনুসারে তিনি পরম লাভ করিয়াছেন এমন সিদ্ধ মহাত্মাগণের লক্ষণ বর্ণনা করিয়াছেন। এখানেও সপ্তদশ ও অষ্টাদশ শ্লোকে এই একই রীতি প্রয়োগ করা হইয়াছে।
যে আধ্যাত্মিক সাধনা একটি নির্দিষ্ট বিন্দু হইতে আরম্ভ হয়, সেই বিন্দুতেই তাহার পরিসমাপ্তি ঘটে। গীতায় যদিও কর্মযোগের আলোচনা দ্বিতীয় অধ্যায়ের ঊনচল্লিশতম শ্লোক হইতে আরম্ভ হয়, তথাপি কর্মযোগের মৌলিক সাধনার ব্যাখ্যা দ্বিতীয় অধ্যায়ের সাতচল্লিশতম শ্লোকে দেওয়া হইয়াছে। সেই শ্লোকটি (২.৪৭) তাহার চারি চরণে বলিতেছে:
(১) তোমার অধিকার কর্মে মাত্র,
(২) ফলেতে কখনও নয়।
(৩) কর্মফল হেতু ভুও না।
(৪) অকর্মেও অনাসক্ত হও।
বর্তমান শ্লোকটি (৩.১৮) ঠিক উপরি-উক্ত সাধনার সিদ্ধির কথাই বলিতেছে। সেখানে (২.৪৭) দ্বিতীয় ও তৃতীয় চরণে সাধকের জন্য যাহা বলা হইয়াছে, ইহার পরবর্তী অংশে সিদ্ধ মহাত্মার জন্য তাহাই বলা হইয়াছে: যে তাঁহার কোনও প্রাণী বা বস্তুর সহিত আত্মসুখের সম্বন্ধ নাই। সেখানে প্রথম ও চতুর্থ চরণে সাধকের জন্য যাহা বলা হইয়াছে, ইহার পূর্ববর্তী অংশে সিদ্ধ মহাত্মার জন্য তাহাই বলা হইয়াছে: যে তাঁহার কর্ম করিলেও প্রয়োজন নাই, না করিলেও প্রয়োজন নাই। এইরূপে সপ্তদশ ও অষ্টাদশ শ্লোকে কেবল 'কর্মযোগ' দ্বারা সিদ্ধ মহাত্মারই লক্ষণ বর্ণিত হইয়াছে।
কর্মযোগ সাধনার দৃষ্টিকোণ হইতে অষ্টাদশ শ্লোকটি প্রকৃতপক্ষে প্রথমে এবং সপ্তদশ শ্লোকটি পরে আসা উচিত। কারণ যখন কর্মযোগে সিদ্ধ মহাত্মার কর্ম করিবার বা না করিবার কোনও প্রয়োজন নাই এবং কোনও প্রাণী বা বস্তুর সহিত আত্মসুখের লেশমাত্র সম্বন্ধ নাই, তখন তাঁহার আনন্দ, তৃপ্তি ও সন্তোষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাঁহার নিজের মধ্যেই সংঘটিত হয়। কিন্তু ষোড়শ শ্লোকে প্রভু, 'হে পার্থ, বৃথা তাঁহার জীবন' এই কথার দ্বারা কর্তব্য না করিলে ব্যক্তির জীবনকে অর্থহীন বলিয়া ঘোষণা করিয়াছিলেন; অতএব সপ্তদশ শ্লোকে 'কিন্তু' শব্দ প্রয়োগ করিয়া তিনি ব্যাখ্যা করিতেছেন যে যদি সিদ্ধ মহাত্মা কর্তব্যজনিত কর্ম না করেন, তবে তাঁহার জীবন অর্থহীন নয়; বরং পরম অর্থপূর্ণ। কারণ তিনি মনুষ্য জন্মের উদ্দেশ্য পূর্ণ করিয়াছেন। অতএব এখন তাঁহার করিবার কিছুই অবশিষ্ট নাই।
যে অবস্থায় কোনও কর্তব্য অবশিষ্ট থাকে না, সেই অবস্থা সর্বসাধারণ মানুষও প্রত্যেক পরিস্থিতিতে কর্তব্যজনিত কর্ম নিষ্ঠা, একাগ্রতা ও নিষ্কামভাবে সম্পাদন করিয়া লাভ করিতে পারে; কারণ ইহার লাভে সকলেই স্বাধীন ও অধিকারী। কর্তব্য প্রত্যেক পরিস্থিতির সহিত যুক্ত। অতএব কর্তব্য প্রত্যেক পরিস্থিতিতে নিহিত আছে। কেবল সুখলিপ্সার জন্যই মানুষ কর্তব্য ভুলিয়া যায়। যদি সে পরসেবা দ্বারা নিজের সুখলিপ্সা উন্মূলিত করে, তবে জীবনের সমস্ত দুঃখ হইতে মুক্ত হইয়া পরম শান্তি লাভ করিতে পারে। এই পরম শান্তি লাভে সকলের সমান অধিকার। জগতের পরম বস্তু, পদ প্রভৃতি সকলের দ্বারা সমানভাবে লাভ করা যায় না; কিন্তু পরম শান্তি সকলের দ্বারা সমানভাবে লাভ করা যায়।
**সংযোগ:** পূর্বোক্ত দুই শ্লোকে বর্ণিত মহাত্মার অবস্থা লাভ করিতে সাধকের কি করা উচিত – ইহার উপর প্রভু পরবর্তী শ্লোকে সাধনার ব্যাখ্যা করিতেছেন।
★🔗