BG 3.40 — কর্ম যোগ
BG 3.40ⓘ📚 Go to Chapter 3
इन्द्रियाणिमनोबुद्धिरस्याधिष्ठानमुच्यते|एतैर्विमोहयत्येषज्ञानमावृत्यदेहिनम्||३-४०||
ইন্দ্রিয়াণি মনো বুদ্ধিরস্যাধিষ্ঠানমুচ্যতে | এতৈর্বিমোহয়ত্যেষ জ্ঞানমাবৃত্য দেহিনম্ ||৩-৪০||
इन्द्रियाणि: the senses | मनो: the mind | बुद्धिरस्याधिष्ठानमुच्यते: the intellect | एतैर्विमोहयत्येष: by these | ज्ञानमावृत्य: wisdom | देहिनम्: the embodied
GitaCentral বাংলা▲
ইন্দ্রিয়, মন ও বুদ্ধি ইহার আশ্রয়স্থল বলা হয়; ইহাদের দ্বারাই ইহা জ্ঞানকে আচ্ছাদিত করিয়া দেহীকে মোহিত করে।
★
🙋 বাংলা Commentary▲
শব্দার্থ: ইন্দ্রিয়াণি - ইন্দ্রিয়সমূহ, মনঃ - মন, বুদ্ধিঃ - বুদ্ধি, অস্য - ইহার, অধিষ্ঠানম্ - আশ্রয়স্থল, উচ্যতে - বলা হয়, এতৈঃ - ইহাদের দ্বারা, বিমোহয়তি - মোহিত করে, এষঃ - এই (কাম), জ্ঞানম্ - জ্ঞান, আবৃত্য - আবৃত করে, দেহিনম্ - দেহধারী জীবকে। স্বামী শিবানন্দের ভাষ্য: শত্রুর আস্তানা জানা থাকলে তাকে মারা সহজ। তাই, একজন বিজ্ঞ সেনাপতির মতো ভগবান শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে কামনার আস্তানা দেখিয়ে দিচ্ছেন, যাতে তিনি তার ওপর আক্রমণ করে তাকে সহজেই ধ্বংস করতে পারেন।
★
English
Swami Gambirananda
Swami Adidevananda
Hindi
Swami Ramsukhdas
Sanskrit
Sri Ramanuja
Sri Madhavacharya
Sri Anandgiri
Sri Jayatirtha
Sri Abhinav Gupta
Sri Madhusudan Saraswati
Sri Sridhara Swami
Sri Dhanpati
Vedantadeshikacharya Venkatanatha
Sri Purushottamji
Sri Neelkanth
Sri Vallabhacharya
Detailed Commentary▲
**৩.৪০** ইন্দ্রিয়, মন ও বুদ্ধি—এই তিন স্থানেই এই কামনার বাসস্থান বলে কথিত আছে। এই ইন্দ্রিয়, মন ও বুদ্ধির মাধ্যমে কামনা জ্ঞানকে আবৃত করে দেহীকে মোহগ্রস্ত করে। **ভাষ্য:** 'ইন্দ্রিয়াণি মনো বুদ্ধিরস্যাধিষ্ঠানমুচ্যতে'—কামনা পাঁচ স্থানে দৃষ্ট হয়: (১) বিষয়ে (গীতা ৩.৩৪), (২) ইন্দ্রিয়সমূহে, (৩) মনে, (৪) বুদ্ধিতে এবং (৫) কল্পিত 'অহং' বা অহঙ্কারে, অর্থাৎ কর্তৃত্ববোধে (গীতা ২.৫১)। যদিও এটি এই পাঁচ স্থানে প্রকাশ পায়, তবুও কামনার প্রকৃত বাসস্থান কেবলমাত্র কল্পিত 'অহং'-এ (চিৎ ও জড়ের গ্রন্থি)। কিন্তু উল্লিখিত পাঁচ স্থানে প্রকাশ পায় বলেই এগুলোকে কামনার অধিষ্ঠান বলা হয়। সমস্ত কর্ম কেবল দেহ, ইন্দ্রিয়, মন ও বুদ্ধির দ্বারাই সম্পাদিত হয়। এই চারটি কর্ম সম্পাদনের যন্ত্র। কামনা যদি এগুলিতে বাস করে, তবে তা কর্মকে পরমার্থের জন্য হতে দেয় না। তাই কর্মযোগী, নিষ্কাম, নিঃস্বার্থ ও আসক্তিশূন্য হয়ে দেহ, ইন্দ্রিয়, মন ও বুদ্ধির দ্বারা হৃদয়ের শুদ্ধির জন্য কর্ম করেন (গীতা ৫.১১)। বাস্তবে কামনা কেবল অহঙ্কারে (চৈতন্যস্বরূপ আত্মার জড়ের সঙ্গে তাদাত্ম্যবোধে) বাস করে। 'অহং' বা 'আমিত্ব' কেবল একটি কল্পনা। আমি অমুক বর্ণ, আশ্রম বা সম্প্রদায়ের—এটি কেবল একটি ধারণা। বিশ্বাস ছাড়া এর অন্য কোনো প্রমাণ নেই। এই কল্পিত সম্পর্কেই কামনা বাস করে। কামনা থেকেই সমস্ত পাপের উৎপত্তি। পাপের ফলভোগে পাপ নষ্ট হয়, কিন্তু অহঙ্কার থেকে কামনা দূর না হলে নতুন পাপ উৎপন্ন হতে থাকে। তাই কামনাই আত্মাকে বন্ধন করে। মহাভারতে আছে: 'কাম এব বন্ধনং হ্যত্র নান্যৎ বন্ধনমস্তি বৈ। কামবন্ধনমুক্তো হি ব্রহ্মভূয়ায় কল্পতে।' (শান্তিপর্ব ২৫১.৭) 'এতৈর্বিমোহয়ত্যেষ জ্ঞানমাবৃত্য দেহিনম'—কামনার কারণে মানুষ যা করা উচিত তা করে না এবং যা করা উচিত নয় তা করে। এভাবে কামনা দেহাভিমানী মানুষকে মোহগ্রস্ত করে। দ্বিতীয় অধ্যায়ে ভগবান বলেছেন, কামনা থেকে ক্রোধের উৎপত্তি—'কামাৎ ক্রোধোঽভিজায়তে' (২.৬২) এবং ক্রোধ থেকে সম্মোহ (চরম মূঢ়তা) উৎপন্ন হয়—'ক্রোধাদ ভবতি সম্মোহঃ' (২.৬৩)। এ থেকে বুঝতে হবে, কামনা বাধাপ্রাপ্ত হলে ক্রোধের সৃষ্টি হয়; কিন্তু কামনা বাধাপ্রাপ্ত না হলে কামনা থেকে লোভ, এবং লোভ থেকে মোহের সৃষ্টি হয় (দ্রষ্টব্য পৃ. ১৯৭.১)। সারকথা: কাম্য বস্তু না পেলে 'ক্রোধ' এবং বস্তু পেলে 'লোভ' উৎপন্ন হয়। সেখান থেকে 'মোহ' সৃষ্টি হয়। কামনা রজোগুণের ক্রিয়া এবং মোহ তমোগুণের ক্রিয়া। রজোগুণ ও তমোগুণ পরস্পর নিকটবর্তী থাকে (দ্রষ্টব্য পৃ. ১৯৭.২)। তাই কামনা, ক্রোধ, লোভ ও মোহ পরস্পর খুব নিকটে বাস করে। কামনা ইন্দ্রিয়, মন ও বুদ্ধির মাধ্যমে দেহাভিমানী মানুষকে মোহিত (মূঢ়) করে। এভাবে কামনা যদিও রজোগুণের ক্রিয়া, তার ফল হয় মোহ, যা তমোগুণের ক্রিয়া। কামনা উৎপন্ন হলে মানুষ প্রথমে ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে ভোগ করতে ইচ্ছা করে। প্রথমে ভোগ্য বস্তু পাওয়া যায় না, পাওয়া গেলেও তা স্থায়ী হয় না। তাই কোনোভাবে তা পেতে মন নানা কামনা পোষণ করে। বুদ্ধিতে তার প্রাপ্তির নানা উপায় চিন্তা করে। এভাবে কামনা প্রথমে ইন্দ্রিয়গুলোকে স্পর্শজাত সুখের প্রলোভনে নিযুক্ত করে। তারপর ইন্দ্রিয়গুলো মনকে নিজের দিকে টানে এবং তারপর ইন্দ্রিয় ও মন একত্রে বুদ্ধিকেও নিজের দিকে টানে। এভাবে কামনা জ্ঞানকে আবৃত করে ইন্দ্রিয়, মন ও বুদ্ধির মাধ্যমে দেহাভিমানীকে মোহিত করে পতনের গর্তে নিক্ষেপ করে। এটি একটি নীতি যে, যদি চাকর ভালো হয়, কিন্তু মনিব তাকে অবজ্ঞা করে বিদায় করে, তবে সে আর ভালো চাকর পাবে না। অনুরূপভাবে, মনিব ভালো হলেও চাকর যদি তাকে অবজ্ঞা করে, তবে সে আর ভালো মনিব পাবে না। সেইরূপ মানুষ যদি ঈশ্বরকে না পেয়ে মানবদেহকে কেবলই worldly ভোগ ও সম্পদে নষ্ট করে, তবে সে আর মানবদেহ লাভ করবে না। হৃদয়ের অশুদ্ধির কারণে ভালো জিনিস অবজ্ঞাত হয়, আর হৃদয় অশুদ্ধ হয় কামনার কারণে। তাই সর্বপ্রথম কামনাকে বিনষ্ট করতে হবে। 'দেহিনং বিমোহয়তি' শব্দের অর্থ হলো, এই কামনা কেবল দেহাভিমানী মানুষকেই মোহিত করে। যে ব্যক্তি দেহকে 'আমি' ও 'আমার' বলে মনে করে, সেই-ই দেহাভিমানী। উপদেশের একেবারে শুরুতে প্রভু দেহ (দেহ) ও দেহী (দেহস্থ আত্মা)-এর পার্থক্য ব্যাখ্যা করেছেন (গীতা ২.১১–৩০)। দেহ ও দেহী পৃথক—এটি প্রত্যেকেরই অভিজ্ঞতা। এই কামনা জ্ঞানকে আবৃত করে দেহাভিমানীকে (দেহের সঙ্গে সম্পর্ক বিশ্বাসকারীকে) বন্ধন করে, দেহী (শুদ্ধ আত্মা) কে করে না। যে দেহের সঙ্গে সম্পর্ক স্বীকার করে না, তাকে বাঁধতে পারে না। দেহকে 'আমি', 'আমার' ও 'আমার জন্য' মনে করলেই মানুষ নশ্বর জড় বস্তুকে গুরুত্ব দেয়; এ থেকেই তার মধ্যে জড়ের প্রতি আসক্তি জন্মায়। আসক্তি জন্মালে জড়ের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। জড়ের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে উঠলেই কামনার জন্ম হয়। কামনা জন্মালে আত্মা মোহিত হয়ে worldly বন্ধনে আবদ্ধ হয়। **সংশ্লিষ্টতা:** এখন, পরের তিন শ্লোকে প্রভু কামনা বধের পদ্ধতি ব্যাখ্যা করে তাকে বিনাশ করার আদেশ দিচ্ছেন।
★
↑